লক্ষ্ণীপুরে জমি দখলের চেষ্টা দুই দফায় উত্তেজনা

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
লক্ষ্ণীপুরে জমি দখলের চেষ্টা দুই দফায় উত্তেজনা

লক্ষ্ণীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় দুই দফা সংঘাত, আদালতের হস্তক্ষেপ, এবং পরবর্তীতে অপপ্রচারের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বাসিন্দা আজমল হোসেন হেলাল জোরপূর্বক অন্যের জমিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর (সাইড ওয়াল) নির্মাণের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে জানাগেছে, ভুক্তভোগী জমির মালিক আব্দুল কাইউম (পিতা: মৃত হাজী শাহআলম), সাং বাঞ্চানগর, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, লক্ষ্ণীপুর পৌর শহর। তার মালিকানাধীন দাগ নং ১০,০৯৮ এর আওতায় খতিয়ান নং ২৪৫৬, ২৪৩৯ ও ৬১২-এ মোট ৬.৮০ শতাংশ জমি রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আজমল হোসেন হেলাল (পিতা: মৃত আহাম্মদ উল্যাহ্) দাগ নং ১০,০৯৯ এর ২.৮৪ শতাংশ জমির মালিক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথম ঘটনা ঘটে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে। ওইদিন রাতে আজমল হোসেন হেলাল গোপনে জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করে। এসময়  জমির মালিক পক্ষ তাদেরকে বাধা দেয়। পরে দখল নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা নিষেজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে জমির মূল মালিক ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে আদালত থেকে ইনজাংশন জারি করা হয়। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি অভিযুক্ত পক্ষ-২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে আবারও রাতে একইভাবে প্রাচীর নির্মাণের অপচেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ রেখে তারা পালিয়ে যায়।  ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তাদের সন্তান ও আত্নীয়দের  চিকিৎসার কাজে ঢাকায় হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত আজমল হোসেন হেলাল তাদের জমিতে মাটি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে তারা দ্রুত এলাকায় ফিরে এসে কাজ বন্ধ করতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের উপস্থিতি না থাকলে রাতের আঁধারে আবারও কাজ চালানোর চেষ্টা করা হয়।এরপর ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়। তারা আদালতে আবেদন করে জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করান এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত ইনজাংশন জারি করেন। ভুক্তভোগী পক্ষের আত্মীয় ও সাক্ষী জিএম ফজলুল হক বলেন,“জমি রক্ষার জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক।” তিনি আরও জানান, জমি রক্ষার্থে একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় তালা দেওয়া হয়, যা নিয়ে পরবর্তীতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ঘটনায় লক্ষ্ণীপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. ফয়েজ-কে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে মো. ফয়েজের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা ও বানোয়াট।  একাধিক সূত্র জানায় ,জমি দখলের চেষ্টা, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং অপপ্রচারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দখলচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরি। ভুক্তভোগী পরিবারও একই দাবি জানিয়ে বলেছে, “আমরা প্রশাসন ও আদালতের উপর আস্থা রাখছি। সুষ্ঠু তদন্ত হলে সত্য সামনে আসবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবে। এ সকল বিষয়ে আজমল হোসেন হেলাল সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,জমিটি খরিদ করেছেন । পতিত জমিটি তিনি নির্মাণ কাজ করছেন ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে