চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন উদ্যমের সঞ্চার ঘটেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে। সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এফসিএ। শুক্রবার উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় তার নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সীতাকুণ্ড যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের এই অবদানের জন্য তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আন্দোলন কোনো আকস্মিক বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বহুল আলোচিত বক্তব্য-আন্দোলন করতে হলে আসলামের মতো করো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতিফলন। আসলাম চৌধুরী আরও বলেন, দলের বড় নেতারা বেইমানি করলেও তৃণমূল কখনো বেইমানি করে না, এটাই সংগঠনের প্রকৃত শক্তি ও ভিত্তি। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, গত প্রায় ১৭ বছরে সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে সীতাকুণ্ড যুবদল ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এ সময় গ্রেপ্তার, মামলা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা যুবদলের বর্তমান কমিটি বহাল রাখা হয়। এতে শাহাবুদ্দিন রাজুকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ ইসমাইলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্তোষের সঞ্চার করে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকর টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতে ইচ্ছুক নেতাদের সম্মানজনক বিদায়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কথাও তিনি তুলে ধরেন। দুই পর্বে অনুষ্ঠিত সভার প্রথম অংশে বিদায়ী নেতাদের ফুল দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। দীর্ঘদিন সংগঠনের আহ্বায়ক ফজলুল করিম চৌধুরী ও সদস্য সচিব খোরশেদ আলমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে লটারির মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হলে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ, সদস্য সচিব মোরসালিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান জসিম ও সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরীসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সভায় অংশ নেন। প্রায় ৯০টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সভাটি এক বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তৃণমূলের ঐক্য, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগামীর রাজনৈতিক আন্দোলনে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।