ইটভাটায় কাজ না করায় লক্ষ্ণীপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে এনে কালু মিয়া(৪০) নামে এক শ্রমিককে দুইহাত ঝুলিয়ে বেধেঁ নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ইটভাটার সর্দ্দার ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ার হাটের স্লুইসগেইট এলাকায়। নির্যাতনের ভিডিওটি শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলায় জুড়ে সমালোচনা ঝড় উঠে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। নির্যাতিত শ্রমিক একই উপজেলার চরকাদিরার চরবসুর বাদামতলী এলাকায়। নির্যাতিত শ্রমিকরা স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ৬ মাসের জন্য বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকায় শ্রমিক কালু মিয়াকে কিনে নেয় ইটভাটার সর্দ্দার ইছমাইল হোসেন। সে অনুযায়ী চট্রগ্রামের একটি ইটভাটার শ্রমিকের কাজ করতো সেই। কিছুদিন আগে অসুস্থ্যতার কারনে বাড়িতে চলে আসে কালু মিয়া। এরপর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেয় সেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্বশুরবাড়ি থেকে ইছমাইল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ধরে নিয়ে আসে কালুকে। এরপর ফজুমিয়ারহাটের স্লুইসগেইট এলাকায় ইছমাইল হোসেনের অফিসে এনে দুইহাত বেধেঁ ঝুলিঁয়ে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে থাকে ইছমাইল। পরে কালুর পরিবর্তে তার কাজ ভাইদের মাধ্যমে করে দিতে স্বীকারোক্তি নিতে শুনা যায় সর্দ্দার ইছমাইল হোসেনকে। এরপর কালু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বাড়াবাড়ি করবেনা বলে সাদা কাগজে মুছলেকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এঘটনায় এলাকায় নানা সমালোচনার ঝড় উঠে। জড়িত সর্দ্দার ইছমাইল হোসেনের গ্রেফতারের দাবী জানান স্থানীয়রা। এদিকে অভিযুক্ত ইছমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কালুকে বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকায় চট্রগ্রামের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে কিনে নেয়া হয়। শুরু থেকে সে ঠিকমতো কাজ করছেনা। প্রায়ই নানা অজুহাতে ভাটার কাজ ফেলে চলে আসে। তবে দুইহাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখলোও বেশি মারধর করা হয়নি। ভয় লাগানোর জন্য সামান্য কয়েকটি বেত্রাঘাত দিই। কিন্তু কোন ইটভাটায় তাকে কাজ দিয়েছে, সেটা বলতে রাজি নয় ইছমাইল হোসেন। লক্ষ্ণীপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে অপরাধীর বিচার হবে। এ বিষয়ে ছঅড় দেয়া হবেনা।