চাঁদপুরে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নৃত্যাঙ্গন’-এর ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এতো সুন্দর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও হলরুমে দর্শকের উপস্থিতি খুবই কম, যা দুঃখজনক। ভবিষ্যতে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দিতে হবে-প্রতিটি ওয়ার্ডে অনুষ্ঠান করলে আমি নিজেই খরচ বহন করবো। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নেশা বা নেতিবাচক বিষয়ে মানুষ বেশি আগ্রহী হলেও সংস্কৃতিমনা আয়োজনগুলোতে সেই আগ্রহ দেখা যায় না। এ অবস্থা পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশে এসব কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর শিল্পকলা একাডেমির অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট আনার আশ্বাস দেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নৃত্যাঙ্গনের সভাপতি রঞ্জিত রায় চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বরণের প্রাক্কালে নৃত্যাঙ্গনের এ আয়োজন প্রশংসনীয়। প্রতি বছরই তারা বৈশাখের আগের দিন এই বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান করে থাকে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়াও তিনি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ-পান্তা খাওয়ার প্রচলিত সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে জাটকা সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষে তিনি সকলকে বাংলা নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শামছুল ইসলাম মন্টু, চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নূরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার এবং চাঁদপুর জেলা সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠান শেষে নৃত্য, সংগীতসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।