জেলায় মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ বর্ণিল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা বের হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাঁদপুর প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড় গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
এতে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। নানা বয়স ও পেশার মানুষের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রা প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
সেখানে আয়োজিত দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনায় মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।
নববর্ষ উপলক্ষে ডাকাতিয়া নদীর পাড় জুড়ে আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলা, লোকজ পণ্যের প্রদর্শনীসহ নানা অনুষ্ঠান। দিনভর এসব আয়োজন শহরের প্রতিটি প্রান্তকে করে তোলে বর্ণিল ও উৎসবমুখর।
এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব একরামুল ছিদ্দিকী,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান,
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি সুভাষচন্দ্র রায়, জেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাট্য ও সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
নববর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করেন।
‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে।চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে পৃথক আয়োজনে বাংলা শুভ নববর্ষ উদযাপন করা হয়। শহরের পুরান বাজার পুরাতন ফায়ার সার্ভিস মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখী মেলা। এতে সাধারন মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অপরদিকে, জেলা প্রশাসনের পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে বিকেলে মানুষের ঢল নামে অনুষ্ঠান স্থলে।
শোভাযাত্রায় ছিল ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ উপকরণ, বর্ণিল মুখোশ, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডের সমাহার। লোকজ সাজে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা আনন্দঘন পরিবেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্দীপ্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়।