চাঁদপুর বারোয়ারি মন্ডপে সনাতনী ব্যবসায়ীদের শ্রী গনেশ পূজা উদযাপন

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
চাঁদপুর বারোয়ারি মন্ডপে সনাতনী ব্যবসায়ীদের শ্রী গনেশ পূজা উদযাপন

১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখে চাঁদপুর জেলা শহরের প্রধান ব্যবসায়িক এলাকা পুরাণবাজারে সনাতনী ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে শ্রী গণেশ পূজা ও ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উৎসব উদযাপন হয়েছে। বুধবার সকালে পুরাণবাজার বারোয়ারি পূজা মন্ডপে এ পূজার আয়োজন করে বাজারের তরুণ ব্যবসায়ীরা।

এই পূজা উপলক্ষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। পূজায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও চাঁদপুর চেম্বার সভাপতি সুভাষচন্দ্র রায়। আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা,সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন সাহা,সিনিয়র ব্যবসায়ী শেখর পাল,বারোয়ারি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমূল কুমার সাহা,সাংগঠনিক সম্পাদক শুকান্ত সাহা টিটু,

চাঁদপুর পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নেপাল চন্দ্র সাহা প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন তরুন ব্যবসায়ি শুভ পাল, আবির ঘোষ,ইমন দাস,অনু সাহা,বিনু সাহা,শম্ভু বণিক, প্রীতম সাহা,শিশির সাহাসহ অন্য ব্যবসায়িবৃন্দ। পুরোহিত ছিলেন প্রসনজিত চক্রবর্তী।

পূজা আয়োজকদের একজন লিটন চন্দ্র দাস জানান, বাংলা শুভ নববর্ষের প্রথম দিন  ব্যবসার শুভ কামনায় সিদ্ধিদাতা গণেশ ও লক্ষ্ণীর আরাধনা করে নতুন খাতা খোলা হয়, গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হয় এবং পুরানো বকেয়া হিসাব চুকানো হয়। 

নতুন খাতার প্রথম পাতায় সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে শুরু হয় নতুন বছরের হিসাব। গ্রাহক ও পরিচিতদের মিষ্টিমুখ করিয়ে নতুন বছর শুরু করা হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাজার ব্যবসায়িরা লক্ষ্ণী বৈশাখ পূজার আয়োজন করেছে।

উল্লেখ্য, বাঙালি সংস্কৃতিতে 'শুভ কাজে সিদ্ধিদাতা গণেশ'- এই ধারণাটি প্রোথিত। পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন খাতা খোলার দিন। মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রচলন শুরু হয়। সেই সময় থেকেই ব্যবসায়ীরা বছরের শুরুতে তাদের লেনদেনের নতুন হিসাব রাখার জন্য লাল সালু মোড়ানো খাতা তৈরি করতেন। তবে এই পার্থিব হিসাবের খাতাটি খোলার আগে পরমেশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়। গণেশ হলেন বিঘ্নহর্তা; অর্থাৎ তিনি জীবনের সকল বাধা দূর করেন। তাই নতুন বছরের ব্যবসায়িক পথ যাতে মসৃণ হয়, সেই কামনায় সিদ্ধিদাতা গণেশ ও ধনের দেবী মা লক্ষ্ণীর পূজা করা হয়।

পহেলা বৈশাখের দিন সকালে দোকান পরিষ্কার ও সাজসজ্জা করা হয়, এবং সনাতনী ব্যবসায়ীরা নতুন আশায় নতুন বছরের ব্যবসার সূচনা করেন।

পঞ্জিকা অনুসারে বাংলার নববর্ষ ১৪৩৩ চাঁদপুরের সর্বত্র নানান কর্মসূচিতে উদযাপিত হচ্ছে। 

এই দিনটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয় এবং হালখাতার সাথে সাথে এই পূজার মাধ্যমে নতুন বছরের ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে