তৃণমূল রাজনীতিকে সক্রিয় করে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ রাজধানী ঢাকায় দলীয় প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত করেছেন। এ সময় তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া-মোনাজাত করেন। গত বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল দুপুরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মাজার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ, সদস্য সচিব মো. মোরসালিন, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরীসহ উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শই বিএনপির রাজনীতির মূলভিত্তি। বিএনপি'র চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে। সীতাকুণ্ডের নবগঠিত কমিটি এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন কমিটি কেবল একটি সাংগঠনিক কাঠামো নয়, বরং তৃণমূল রাজনীতির পুনর্জাগরণের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। আগামী দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সীতাকুণ্ড বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ফলে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নভিত্তিক কর্মীসভা, সদস্য সংগ্রহ অভিযান, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং জনসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণাও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দুঃস্থদের সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। শিগগিরই উপজেলা পর্যায়ে বৃহৎ কর্মী সমাবেশ এবং নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।
মাজার জিয়ারত কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলভিত্তিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, সীতাকুণ্ডের এই উদ্যোগ তারই অংশ, যা ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।