কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে সংসদে প্রস্তাব

বাগমারার স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের দাবি এমপি আব্দুল বারীর

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
বাগমারার স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের দাবি এমপি আব্দুল বারীর
মহান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডাঃ আব্দুল বারী সরদার কৃষকদের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জাতীয় পর্যায়ের সকল শহীদ ও জুলাই আন্দোলনের বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশ একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কৃষিনির্ভর বাগমারা ও কৃষকের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রায় ৪ লাখ মানুষের ৯০ শতাংশই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। নিজেকে কৃষকের সন্তান পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের কষ্ট তিনি নিজের মতো করেই অনুভব করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা চরম হতাশায় ভুগছেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংসদ সদস্য কৃষি খাতে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম কমিয়ে ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি জানান এবং কৃষকদের সহজলভ্যভাবে কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন। বাগমারা উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি মাত্র সরকারি হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এসে নানা সংকটে পড়ছেন। হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন আউটডোরে ৭০০-৮০০ এবং ইনডোরে ৯০-১০০ রোগী সেবা নিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক ও ক্লিনারের অভাব রয়েছে এবং চিকিৎসক সংকটও প্রকট। অনেক রোগী শয্যা না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ‘পথিক’ শিশুর ঘটনা বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে বাগমারায় রাস্তায় এক নবজাতকের জন্ম হয় এবং শিশুটির নাম রাখা হয় ‘পথিক’। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা সংসদ সদস্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতির ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংকটকালীন সময়ে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হলে দেশে এত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। তিনি বলেন, আমি গ্রামীণ জনপদের প্রতিনিধি। আমার এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।” সংসদে তাঁর এ বক্তব্য বাগমারা ও রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে