লক্ষ্ণীপুরে

মাটির নিচে পন আস্তানা, বিছানা বালিশসহ রহস্যময় সুড়ঙ্গ ঘিরে চাঞ্চল্য

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
মাটির নিচে পন আস্তানা, বিছানা বালিশসহ রহস্যময় সুড়ঙ্গ ঘিরে চাঞ্চল্য

লক্ষ্ণীপুরে যেন সিনেমার দৃশ্য! বাইরে থেকে সাধারণ একটি বাগান কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে ছিল মাটির নিচে তৈরি এক রহস্যময় সুড়ঙ্গ। প্রবেশপথ এমনভাবে বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল যে, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও টের পাওয়ার উপায় ছিল না। অথচ সেই গোপন সুড়ঙ্গের ভেতরে মিলেছে ওঠানামার সিঁড়ি, বিছানা বালিশ যেন কেউ নিয়মিত বসবাস করত সেখানে! লক্ষ্ণীপুরের এই সুড়ঙ্গ যেন রেখে গেল আরও বহু অজানা রহস্যের ইঙ্গিত। ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্ণীপুর গ্রামে। একটি পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের বাগানে হঠাৎই এই সুড়ঙ্গের সন্ধান মেলে। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র কৌতূহল ও আতঙ্ক।

কেন এত গোপনে তৈরি করা হয়েছিল এই সুড়ঙ্গ? শুধু মাদক সেবনের জন্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো উদ্দেশ্য? এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। দিনের আলোয় স্বাভাবিক এক বাগান আর রাতের আঁধারে মাটির নিচে লুকানো অজানা গল্প।  স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুড়ঙ্গটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। ভেতরে ৩৪ জন অনায়াসে অবস্থান করতে পারতেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, এটি ছিল মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা। রাতের অন্ধকারে এখানে চলত গোপন আড্ডার বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে এ ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, সুড়ঙ্গের ভেতরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা যায় এবং সেখানে সাজানো রয়েছে বিছানা বালিশ যা দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজন সাহা নামের এক যুবক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এই সুড়ঙ্গ তৈরি করেন। নিয়মিত সেখানে বসে মাদক সেবন করতেন বলেও দাবি তাদের। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বিকার করে তাদের নাম প্রকাশ না করা শর্তে সুজন সাহার স্ত্রী ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তাঁর দাবি, সুড়ঙ্গটি তাঁর স্বামী তৈরি করলেও সেখানে মাদক সেবন হতো কি না তা তিনি নিশ্চিত নন। দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন,স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, মাদক সেবনের সুবিধার জন্যই সুড়ঙ্গটি তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এদিকে লক্ষ্ণীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মাদকসংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হতো। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে