রাজশাহীতে মৃত্যুর চার বছর পর একটি বিস্ফোরক মামলায় আসামি হলেন মো: সনি নামের এক তরুণ। বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। কিন্তু চার বছর আগেই মারা যান মো: সনি (১৮)।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিতে গত ২৩ এপ্রিল বোমাবাজি হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩ নম্বর আসামি করা হয় মো. সনি (১৮) নামের মৃত তরুণকে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম পাখি এ মামলার প্রধান আসামি।
পাখি রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক। গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন। তবে তুচ্ছ ঘটনায় মারধরের জেরে ২২ এপ্রিল শ্রমিকেরা পাখিকে লাঞ্ছিত করেন এবং সংগঠনের কার্যালয়ে তালা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন। তারা সংগঠনের নির্বাচন দাবি করছিলেন।
এ অবস্থায় অনুসারী শ্রমিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পরদিন বিকেলে ইউনিয়ন কার্যালয় পুনর্দখলে যান পাখি। সেদিন শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ৮ থেকে ১০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলাকারীদের হাতে সেদিন পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। নগরীর শিরোইল এলাকায় এই হামলার সময় আশপাশের কয়েকটি দোকানপাটেও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৪ এপ্রিল উভয়পক্ষই নগরীর বোয়ালিয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেন।
শ্রমিক নেতা পাখি গ্রুপের হয়ে মামলা করেন আবুল কাশেম টুলু নামের এক ব্যক্তি। আর পাখি গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাজাহান আলী নামের এক ব্যক্তি। শাহজাহানের মামলায় বাবার বোমাবাজির জন্য শ্রমিক নেতা পাখির ছেলে মৃত সনিকেও আসামি করা হয়। অথচ ২০২২ সালের ৩ জুলাই নিজের জন্মদিনেই খুন হন সনি। সেদিন রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সনিকে হত্যার দায়ে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ দুজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।
নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো স্থানীয় না। নিয়মিত বদলির মধ্যে থাকি। সব ঘটনাও জানি না। তাই তারা আসামি করেছে, আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারি যে মামলার ৩ নম্বর আসামি মৃত। গত রোববার আমরা এ বিষয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।’
ওসি জানান, সেদিনের বোমাবাজির ঘটনায় দুই মামলায় দুপক্ষের তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শ্রমিক নেতা পাখি পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। কথা বলার জন্য সোমবার দুপুরে পাখির মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে পাখিকে গ্রেপ্তার এবং তার পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সকালে মানববন্ধন করেছেন অপর গ্রুপের শ্রমিকেরা। নগরের ভদ্রা মোড়ের স্মৃতি অম্লান চত্বরে এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপাররা অংশ নেন। তারা পাখির পদত্যাগ, তাকে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে শ্রমিক মো. শামীম, মো. স্বপন, মো. নাজমুল, মো. লিটন, আজমত আলী, জাহাঙ্গীর আলম, সাজ্জাদ হোসেন, মো. শিমুলসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে মৃত তরুণের বিরুদ্ধে মামলা করা শাহজাহান আলীকে দেখা যায়নি। কথা বলার জন্য তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার সঙ্গেও কথা বলা যায়নি।
শাহজাহানের দায়ের করা মামলায় নিজাম উদ্দিন নামের একজন আসামি আছেন। তিনি নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। দুই মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে তিনি একজন। তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন করেছেন পাখির অনুসারীরা। এতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক সৈকত পারভেজ, চন্দ্রিমা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ তপন, নগর যুবদলের সদস্য মানিক হোসেন, নিজামের স্ত্রী সুমি খাতুন অনেকে বক্তব্য রাখেন। তারা নিজামকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তি চান। পাশাপাশি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন।