নওগাঁর মহাদেবপুরে এক ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই ভাটা মালিক সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার দাবি করেন। বুধবার বিকেলে “বরুণ মজুমদার” নামে ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও প্রচার করে অভিযোগ করা হয় যে, ইটভাটা থেকে গ্যাস ছেড়ে দেয়ার ফলে ওই গ্যাসের প্রভাবে ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। ভিডিওতে কয়েকজন কৃষক দাবি করেন যে, দুদিন আগে ইব্রাহীম সরকারের ইটভাটা বন্ধ করার সময় গ্যাস ছেড়ে দেয়। সেই গ্যাসে এবার বিভিন্ন কৃষকের ধান পুড়ে গেছে। কিন্তু ভিডিওতে ধান পুড়ে যাবার কোন দৃশ্য দেখানো হয়নি। একটি ধানখেতের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষকেরা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই ধানখেতও ভাল দেখা যায়। তারা দাবি করেন যে, এই খেতের ধান ভাল হবেনা। তারা এব্যাপারে কোথাও কোন অভিযোগ করেননি এবং ইটভাটা মালিকের সাথে বসে বিষয়টি মিমাংসা করে নিবেন বলেও প্রচার করা হয়। ভাটা মালিক দাবি করেন যে, তার কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার এটি একটি কৌশল। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার খাজুর মৌজায় অবস্থিত “মেসার্স সরকার এন্ড সন্স” নামক ইটভাটা এলাকায় গেলে মালিক ইব্রাহীম সরকার জানান, এটি একটি অত্যাধুনিক ইটভাটা। এর ১৩০ ফুট দীর্ঘ চিমনি দিয়ে ধোঁয়া উপরে উঠে বাতাসের সাথে মিশে যায়। এখান থেকে গ্যাস ছাড়ার কোন সুযোগ নাই। ভিডিওতে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের খেত ইটভাটা থেকে অনেক দূরে রাংতৈড় মৌজায়। ভাটার কাছে তার নিজের ৩৫ বিঘা জমিতে ধান লাগানো আছে। এগুলোর কোন ক্ষতিই হয়নি। বরং ফলন ভাল হয়েছে। কৃষকরা কোথাও কোন অভিযোগ না করলেও ফেসবুকে কেন এটি প্রচার করা হলো তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। প্রচারিত ভিডিওতে ভাটা মালিক বা তার কোন প্রতিনিধির কোন বক্তব্যও নেয়া হয়নি। তিনি এই অপপ্রচারের প্রতিকার দাবি করেন। তিনি প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।
রংতৈড় গ্রামের মাঠে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা হলে, খাজুর গ্রামের দুলালের ছেড়ে কাঞ্চন জানান, ভাটা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তার ধানখেতে ভাটার গ্যাসে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু কোথায় ক্ষতি হয়েছে তা তিনি দেখাতে পারেননি। এত দূরে কিভাবে ক্ষতি হলো তারও কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাংতৈড় এলাকার ২৭ জন কৃষক তাদের জমির ধান পুড়ে গেছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগে কার কতখানি জমির ক্ষতি হয়েছে তার কোনই বিবরণ নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবর পাঠান। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ জানান, তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।