হালদা পাড়ে ডিম থেকে রেনু ফোটাতে ব্যস্ত ডিম সংগ্রহকারীরা

এফএনএস (কেশব কুমার বড়ুয়া; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
হালদা পাড়ে ডিম থেকে রেনু ফোটাতে ব্যস্ত ডিম সংগ্রহকারীরা

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র  চট্টগ্রামের    হালদা নদী থেকে আহরিত ডিম থেকে রেনু ফোটাতে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে ডিম আহরনকারীরা। নদীতে  মা মাছ গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)  ডিম ছেড়েছে। সকাল দাশটার দিকে নমুনা ডিম ছাড়েছে,  আবার একই দিন দুপুর  দেড়টা দুইটার দিকে ২য় দফা ডিম ছাড়ে এবং রাত দুইটার দিকে পুনরায় ডিম ছেড়েছে  বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এবার পূর্ণিমার প্রথম জো/ তিথিতে  প্রায় সাড়ে আড়াই শ  নৌকায় ৫ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী ৬ হাজার কেজি ডিম আহরন করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা ।  বাংলা  বছরের প্রথম মাস বৈশাখ মাসে চলমান  পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে মাছ তিন  দফা ডিম ছেড়েছে। নদীর অংকুরী ঘোনা, গড়দুয়ারায় নয়াহাট, সিপাহির ঘাট, পাতাইজ্জ্যার টেক, কাগতিয়ার টেক, সোনাইর মুখ,  মাছুয়াঘোনা, আজিমারঘাট, নাপিতেরঘাট, আমতুয়া কুমারখালির টেক,  বারিয়াঘোনা, রমদাশমুন্সিরহাট, মদুনাঘাট প্রভৃতি এলাকায় ডিম ছাড়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। কয়দিন থেকে কাল বৈশাখীর দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, নদীতে, পাহাড়ী ঢলের প্রকোপ,  অপেক্ষাকৃত শীতল পরিবেশ মাছের ডিম ছাড়ার উপযোগী। তাই উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে পূর্ণিমার জো/ তিথিতে মাছ  ডিম ছেড়েছে। 

 এদিকে হালদা নদী থেকে আহরিত ডিম থেকে  হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি কে পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল । তিনটি হ্যাচারিতে যথাক্রমে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬ টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত ছিল ডিম থেকে রেনু ফোটাতে। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়োঘোনাতে ২৬ এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ পাঁচশোর অধিক ডিম সংগ্রহকারী,ডিম ফোটাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে ।  প্রত্যেক হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেনু উৎপাদনের সকল কার্যক্রম সুন্দর ভাবে চলছে  বলে জানান হাটহাজারী উপজেলা  সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আল প্রসংগত জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, নদী থেকে ২০১৪ সালে ১৩ মে  ৩৬৪টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করেছে ১৬,৫০০কেজি।  ২০১৫ সালে ২১ এপ্রিল  ২৭৫টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করেছে  ২৮০০ কেজি। ২০১৬ সাল ২০ মে ২৪৫টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করেছে ৭৩৫ কেজি। ২০১৭ সালে ২২ এপ্রিল  ১০৫টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করেছে ১৬৮০ কেজি। ২০১৮ সালে ২০ এপ্রিল  ৪০৫ টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করেছে  ২২৬৮০ কেজি। ২০১৯ সালে ২৫ মে ২৩০টি নৌকা ডিম সংগ্রহ করেছে  ৬৯৮৫ দশমিক ৭ কেজি। ২০২০ সালে ২৮০ টি নৌকায় প্রায় ২৫ হাজার ৫শ ৩৬ কেজি।  ২০২১ সালে ২৮০ টি নৌকায় ৮ হাজার ৫ শ কেজি। ২০২২ সালে ৩ শ নৌকায় ৬ হাজার কেজি। ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৬  কেজি। ২০২৪ সালে ১ হাজার ৬ শ ৮০ কেজি। ২০২৫ সালে ১৪ হাজার ৬ শ ৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন। হালদা গবেষক অধ্যাপক ড মনজুরুল কিবরিয়া জানান বিগত সময় ডিম ছাড়ার তিনটি তিথির মধ্যে একটি তিথিতে  গত ৩০ এপ্রিল প্রথমবার  পূর্ণিমার জো/ তিথিতে তিন দফায়  ৬হাজার  কেজি ডিম আহরন করা হয়েছে। এবার আড়াই শ নৌকায় পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করেছে। তবে আগামীতে আরো তিনটি জো/ তিথি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, আসন্ন  ১৪ মে  থেকে ১৯ মে শুরু হওয়া অমাবস্যার জো/ তিথিতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে কার্পজাতীয় মা মাছ পুনরায় ডিম ছাড়াতে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে