রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় দুই রাতে ৬৫টি গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির পর সাদা কাগজে মোবাইল নাম্বার লিখে রেখে ভুক্তভোগীদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় চলতি মৌসুমের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের ২৮ এপ্রিল ও ১ মে দিবাগত রাতে উপজেলার গোবিন্দপাড়া, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গনিপুর ও মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে গভীর নলকূপের মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি হয়। অপরাধীরা ঘটনাস্থলে মোবাইল নাম্বার লিখে রেখে যায়।
পরে ওই নাম্বারে যোগাযোগ করলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতি মিটারের জন্য সাত হাজার টাকা এবং ট্রান্সফরমারের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ টাকা পরিশোধ করে খড়ের পালা বা ঝোপঝাড় থেকে তাদের মিটার উদ্ধার করেছেন।
শালজোড় গ্রামের সাইদুর রহমান, তেলিপুকুরের আসাদুল ইসলাম ও গনিপুরের বজলুর রশিদ জানান, নির্ধারিত টাকা দেওয়ার পর চোরদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা মিটার ফিরে পেয়েছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল কাসেম ও ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এ ধরনের চুরির সঙ্গে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত থাকতে পারে।
বাগমারা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম জানান, মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হচ্ছে। অথচ চোর শনাক্ত হচ্ছে না। চোরদের লিখে দেওয়া মোবাইল নাম্বরা গুলো ট্র্যাকিং করলেই তাদের শনাক্ত করা যাবে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, চোরদের লিখে দেওয়া নাম্বারগুলো ট্র্যাকিং করলে দেখা গেছে, তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোক। তবে মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চোরদের সঙ্গে বাগমারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত আছে কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।