কুমিল্লার হোমনা থানায় সামফুলের নেছা (৭৮) নামে এক বৃদ্ধার দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে উল্টো ভুক্তভোগীকে থানার ছাদে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ মে তারিখে দায়েরকৃত ওই অভিযোগে বৃদ্ধা তার পুত্রবধূ আমেনা (৩০), ইয়াছমিন (৩৫), সামসুন নাহার (৪৮), হাসিনা (৪২) ও ছেলে আতাউর রহমান (৩৫), গিয়াস উদ্দিন (৫০) ও ছানাউল্লাহ (৫৩), মজিবুর রহমান (৫৫) এর বিরুদ্ধে তাকে মারধর, চুলে ধরে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ মে সকালে অভিযুক্তরা বৃদ্ধার ওপর আক্রমণ চালায়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হোমনা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে ওসি টমাস বড়ুয়া এ অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে জানান। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে এসআই তাপসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের নামে ওই নারীকে বিধিবহির্ভূতভাবে থানার ছাদে নিয়ে জেরা করেন এস আই তাপস কুমার সরকার। এ বিষয়টি এলাকায় সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসআই তাপস কুমার সরকার থানার ছাদে একটি কংক্রিটের ছোট পিলারের ওপর অত্যন্ত অপেশাদার ভঙ্গিতে বসে আছেন। তার এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট এবং বসার ধরন ছিল একজন ভুক্তভোগীর প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। পুলিশি শিষ্টাচার অনুযায়ী কোনো নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি এবং যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এসআই তাপসকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে। তার এই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং প্রকাশ্যে ধূমপান করতে করতে বৃদ্ধাকে অপ্রাসঙ্গিক ও মানহানিকর প্রশ্নে জর্জরিত করার বিষয়টি মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ভুক্ত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকের সাথে এমন আচরণ তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও পুলিশের পেশাদারিত্বকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসআই তাপস যা করেছেন তা সম্পূর্ণ অপেশাদার কাজ এবং এতে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগরে ব্যাপারে তিনি বলেন, এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হোমনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুল করিম বলের, বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে এসপি স্যার করণীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী সামফুলেরস নেসা জানান, থানার চার তলার ছাদে নিয়ে তাকে জেরা করেছে। তার সঙ্গে ভালো আচরণ করেননি। তার শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখতে চেয়েছে। রাতে বলেছে এক কথা আর এখন বলে আরেক কথা। অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা ঘুরে গেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও অভিযুক্ত এসআই তাপস কুমার সরকারকে একাধিক ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।