“১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে গেলে আমরা আমাদের শেকড়কেই ভুলে যাব। শুধু ৫ই মে নয়, শহীদদের স্মরণ করতে চাই সারা বছর”- এমন মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এমপি। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) সকালে নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শহীদ সাগর চত্বরে ঐতিহাসিক শহীদ সাগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিকভাবে ১৯৭১ সালের ৫ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্মম হামলায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল এলাকায় বহু নিরীহ শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় মানুষ শহীদ হন। সেই গণহত্যার স্মরণে প্রতিবছর গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে শহীদ সাগর দিবস পালিত হয়ে আসছে। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। শহীদ সাগরসহ সকল শহীদের প্রতি জাতির চিরন্তন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদদের স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যে মহান চেতনা নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, আমরা এখনো সেই চেতনাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারিনি। অনেক সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী প্রতিটি শহীদ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।
তিনি বলেন, শহীদদের যথাযথ সম্মান জানাতে হলে তাদের পরিবারকেও সম্মানিত করতে হবে। “শুধু ৫ই মে নয়-আমরা শহীদদের সারা বছর স্মরণ করতে চাই। নিজেদের অবস্থান থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিলটিকে শুধু চিনি উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্বে চালু থাকা বায়ো-প্রোডাক্ট কার্যক্রম পুনরায় চালু করা গেলে এ অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি মিলের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সতর্ক করেন, মিলের কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা চাকরি দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম।
স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল ইসলাম ও শহীদ পরিবারের সন্তান ডা. ইকবাল আজিম শাহিন তালুকদার, ফরহাদ হোসেন রুবেল। এছাড়া বক্তব্য দেন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল সিবিএ সভাপতি মোমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালামসহ শহীদ পরিবারের সদস্য, মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া শেষে তবারক বিতরণ করা হয়।