সাব-পীরগঞ্জে টি, আর বাস্তবায়নের নামে প্রকল্পের টাকা নয় ছয়ের অভিযোগ

এফএনএস (মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান; পীরগঞ্জ, রংপুর) : | প্রকাশ: ৫ মে, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
সাব-পীরগঞ্জে টি, আর বাস্তবায়নের নামে প্রকল্পের টাকা নয় ছয়ের অভিযোগ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি,আইও) আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে এবার টি,আর প্রকল্পের টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ও পি,আইও  নিজেই ৫০ লাখ টাকার ১৫ থেকে ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই ১৫-১৬টি প্রকল্পের সভাপতি শুধু কাগজে-কলমে করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বরদেরকে। গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পগুলো (টিআর কাবিখা-কাবিটা) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন ও রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার গোলাম কিবরিয়ার সঠিক তদারকি না থাকায় পিআইও আব্দুল আজিজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই তদারকি কর্মকর্তারাও পি,আইও’র কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, এ কারণে তাঁরা দেখেও না দেখার ভ্যান করছেন। এর আগে ওই পি,আইও পীরগাছায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তৎকালীন ইউএনও মো. নাজমুল হক সুমনকে ম্যানেজ করে অন্নদানগর ইউনিয়নের শল্লারবিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৬৬ মেট্রিকটন গম আত্মসাৎ করেছেন। কাগজে-কলমে ওই প্রকল্পের সভাপতি হয় ওই সময়ের অন্নদানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। এ নিয়ে ২০২৪ সালে নভেম্বর মাসে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে  ‘৫৬৬ মেট্রিকটন গম আত্মসাত চেয়ারম্যান-পিআইওর’ প্রধান শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের আগেই ওই ৫৬৬ মেট্রিকটন গম আত্মসাৎ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের শুরুতে পিআইও আব্দুল আজিজকে বদলি করা হয় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। কিন্তু সেখানে  এক মাস যেতে না যেতেই তিনি উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আসেন। এরপর তিনি ইউএনও ও ডিআরওকে ম্যানেজ করে চরম অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পিআইও অফিসে গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ কারণে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা চরম অসন্তুষ্ট হয়েছেন ইউএনও ও পিআইওর ওপর।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা- নগদ অর্থ) কাজের জন্য পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বরাদ্দ পাওয়া যায়। ওই বরাদ্দের বিপরীতে ৭২ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পগুলোর চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে। এরপর পীরগঞ্জের উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নেন। এরমধ্যে ১৫ থেকে ১৬ টি প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়নের মেম্বারদের করা হলেও তারা শুধু প্রকল্পের বিল উত্তোলনের চেকে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের কে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে প্রকল্পগুলো পরিদর্শনে গেলে পি,আইও নিজে পরিচালিত ১৫ থেকে ১৬ টি প্রকল্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। চতরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, ‘পিআইও স্যার আমাকে একটি প্রকল্পের সভাপতি করতে ছবি ও ভোটার আইডি কার্ড নিয়েছেন। এরপর তিনি তাঁর অফিসের লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। শুধু বিল উত্তোলনের জন্য চেকে আমার সই নিয়েছেন। কাবিলপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের (সংরক্ষিত) মহিলা সদস্যা রীমা বেগমকে "নিজ কাবিলপুর খিয়ার পাড়ার জিল্লুর বাড়ি হতে বাদশার বাড়ি" পর্যন্ত এইচ,বি,বি রাস্তা গামী রাস্তার সলিং করণ ও সংস্কার কাজের প্রকল্পে সভাপতি করা হয়। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩  লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁকে শুধু প্রকল্পের সভাপতি করে তাঁর কাছ থেকে বিল উত্তোলনের জন্য চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মহিলা ইউ,পি,সদস্যা রীমা বেগম বলেন আমি শুধু নামেই প্রকল্পের সভাপতি-! পি,আইও অফিসের কার্য সহকারী আতিক মিয়া এসে কাজটি তদারকি করে চলে যান।

একাধিক বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, প্রকল্প তালিকার ক্রমিক নম্বর ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৭, ৬৯, ৭০ সহ আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পিআইও পরোক্ষভাবে করছেন। ৬০ নম্বর ক্রমিকে শানেরহাট ইউনিয়নের পালানু সাহাপুর গুচ্ছগ্রাম ঠান্ডার বাড়ী পাকার মাথা হতে গুছগ্রামগামী রাস্তার সলিং করণ ও সংস্কার ২ লাখ টাকা, ৬১ নং ক্রমিকে পাঁচগাছি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত পাঁচগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামন হতে পশ্চিম দিকে নয়াপাড়া পুরাতন জামে মসজিদগামী রাস্তা সলিং করণ ও সংস্কার ২ লাখ টাকা, ৬২ নং ক্রমিকে ২নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর গ্রামের রাজ্জাকের বাড়ী হতে বসন্তের বাড়ীগামী রাস্তার সলিংকরণ ২ লাখ টাকা, ৬৩ নং ক্রমিকে জাহাঙ্গীরাবাদ রাখুর বাড়ীর সলিং হতে খাজা মিয়ার বাড়ীগামী রাস্তা সলিং করণ ও গাইডওয়াল নির্মাণ ও সংস্কার  ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৬৪ নং ক্রমিকে মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর তাজুলের মেশিন ঘর হতে আবু তাহেরের বাড়ীগামী রাস্তার সলিংকরণ ও সংস্কার ৩ লাখ টাকা, ৬৫ নং ক্রমিকে রামনাথপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর মোকছেদ মাস্টারের বাড়ী হতে খন্দকারপাড়া গামী রাস্তা সলিং করণ ও সংস্কার ২ লাখ টাকা। কাজগুলো পিআইও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী দরশন চন্দ্র, আতিক, ফরহাদ হোসেন তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।

রায়পুর, রামনাথপুর, চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের কয়েকজন প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অভিযোগ করে বলেন, আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হলেও পি,আইও আমাদেরকে মুল্যায়ন না করে তিনিই জনপ্রতিনিধির মতো প্রকল্পের কাজ করছেন। এতে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের কমিটি জমা হলে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্ধেক টাকা ছাড় দেওয়া হয়। এরপর প্রকল্পে কাজ বাস্তবায়ন হলে তা পি,আইও ও ইউএনও স্যার সরেজমিনে ঘুরে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড় দেওয়ার কথা। কিন্তু ইউএনও পপি খাতুন পি,আইও’র কথায় অফিসে বসে চেকে স্বাক্ষর করেন।’ ওই চেয়ারম্যানের প্রশ্ন- ইউএনও অনৈতিক সুবিধা না পেলে তিনি কেন পি,আইও’র কথায় চেকে স্বাক্ষর করেন-! আরেক চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্প পরিদর্শনের নামে রংপুর থেকে ডি,আরও গোলাম কিবরিয়া একটি সাদা গাড়িতে মাঝে মধ্যে এসে পি,আইও অফিস থেকে উৎকোচ নিয়ে চলে যান। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি,আইও) আব্দুল আজিজ বলেন, তিনি নিয়ম-মাফিক রুটিন ওয়ার্ক করে উপজেলার অধীনস্থ প্রকল্প গুলো দেখভাল করে থাকেন মাএ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে