মানুষিক চাপে অর্ধেক অপারেশন করেই চম্পট দেয় ডা. সায়েম, ধামাচাপা দিতে গোপন বৈঠক

এফএনএস (জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না; লালমনিরহাট) : | প্রকাশ: ৬ মে, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
মানুষিক চাপে অর্ধেক অপারেশন করেই চম্পট দেয় ডা. সায়েম, ধামাচাপা দিতে গোপন বৈঠক

‎লালমনিরহাটে চিকিৎসক নামধারী এক কসাইয়ের অবহেলায় পঙ্গু হতে বসেছেন এক দরিদ্র রিকশাচালক। জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকার ‘আয়েশা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নেশাগ্রস্থ অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারে ঢ়ুকে এক রোগীর হাত অর্ধেক অপারেশন করে চিকিৎসক সটকে পড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই পৈশাচিক ঘটনা ধামাচাপা দিতে সংবাদকর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করতে পর্দার আড়ালে বড় অংকের টাকার মিশন নিয়ে নেমেছে একটি চক্র।

‎প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ডা. সায়েম যখন অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। সম্ভবত নেশার ঘোরে তিনি সার্জনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে নিশ্চিত হওয়ার পরেও রিকশাচালকের হাতের কবজি অর্ধেক কাটার পর তিনি বুঝতে পারেন এটি তার সাধ্যের বাইরে। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে রোগীকে ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি দ্রুত ক্লিনিক থেকে সটকে পড়েন।

‎একটি বিশ্বস্থ সুত্র এবং লোক মুখে জানা যায় ডা. সায়েম একজন মাদকসেবি। প্রতিদিন তিনি মাদক সেবন করেন। একদিন মাদক সেবন না করলে তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেদিনের ঘটনায় খুব সম্ভবত তিনি মাদক সেবন করেই অপারেশন থিয়েটারে গিয়েছিলেন এবং নেশার কারনেই তিনি অর্ধেক অপারেশন করে ক্লিনিক থেকে সটকে পড়েন।

‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. সায়েমের এটিই প্রথম অপকর্ম নয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার এবং মাঝপথে অপারেশন ফেলে পালিয়ে যাওয়ার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু প্রতিবারই টাকার জোরে এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে তিনি পার পেয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ঘটনার পর তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযোগকারী ও স্থানীয় কতিপয় মহলে মুখ বন্ধ করে দেন। ফলে বারবার ছাড় পেয়ে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

‎নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে শহরের মিশনমোড় এলাকার একটি চা দোকানে কতিপয় সংবাদকর্মীর সঙ্গে গোপন বৈঠকে বসে ওই চক্রটি। সেখানে এই অপকর্মের সংবাদ প্রচার না করার বিনিময়ে সাংবাদিকদের মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়। সংবাদ বন্ধ করতে টাকার অঙ্কের দর-রসা কষিও চলে দীর্ঘক্ষণ, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা জানান, গত ২ মে টিউমার অপারেশনের জন্য আয়েশা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। ডা. সায়েম কথা দিয়েছিলেন তিনি এটি সফলভাবে করবেন। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে হাত অর্ধেক কাটার পর তিনি অদক্ষতার পরিচয় দিয়ে পালিয়ে যান। বর্তমানে দরিদ্র ওই রিকশাচালক যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এবং তার হাতটি পঙ্গু হওয়ার পথে।

‎এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল হাকিম বলেন, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ হয়ে সার্জারি করা বড় অপরাধ। মাদক সেবন এবং সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টিও আমরা শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎বর্তমানে আয়েশা ক্লিনিকের মালিক ও ডা. সায়েম পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে