বর্জ ব্যাবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালায় সিসিক প্রশাসক

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন

এফএনএস (এইচ এম শহীদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ৬ মে, ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও টেকসই করে একে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। তিনি বলেন, কঠিন বর্জ্য শুধু অপসারণ নয়, বরং তা থেকে বায়ো-প্রোডাক্ট উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘বাংলাদেশে নগরভিত্তিক পানি চক্রের টেকসই রূপান্তর (ঝটডঈ)’ প্রকল্পের আওতায় ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জন্য কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ঝডগ) পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী আমরা ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল (৩জ)’ পদ্ধতির পাশাপাশি সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নে কাজ করছি। এই কর্মশালার মাধ্যমে যে ৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বর্জ্যমুক্ত সিলেট গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্টেকহোল্ডারদের মতামত, কারিগরি দক্ষতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সংবেদনশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।”

সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও এসএনভি (ঝঘঠ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ উল্লাহ সজিব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিইডি, সাংবাদিকবৃন্দ, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তাগন।

কর্মশালায় সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নগরীর পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএ) অর্জনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় সহায়তা করেন ওঞঘ ইটঊঞ-এর পরিচালক রওশন মমতাজ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন এসএনভি’র নগরভিত্তিক পানি চক্রের টেকসই রূপান্তর প্রকল্পের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার প্রশান্ত রঞ্জন শর্মা রায় এবং ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোছাম্মদ রাহিমা বেগম।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে