চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বিনা নোটিশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় অচল হয়ে পড়ে জনজীবন। রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পরিবারকে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সীতাকুণ্ড পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাসাবাড়িতে রান্না করা সম্ভব হয়নি। কোথাও পারিবারিক দাওয়াতের আয়োজন ভেস্তে গেছে, কোথাও আবার শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে মোঃ ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, আমি নিজেও ভুক্তভোগী। গ্যাস লাইনে হঠাৎ দুর্ঘটনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সারাদিন গ্যাস বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় আগাম নোটিশ দেওয়ার সুযোগ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমার বাসাতেও রান্না হয়নি। দুপুরের খাবারের জন্য হোটেল থেকে খাবার এনে খেতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন। আশা করছি, রাতের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিকল্প জ্বালানি খুঁজেও পাননি।
এক ভুক্তভোগী জানান, সীতাকুণ্ডে একটি দাওয়াতে গিয়ে পরে শুনেছেন রান্না হয়নি, কারণ গ্যাস ছিল না। শেষ পর্যন্ত আল-আমিন হোটেল থেকে প্যাকেট খাবার এনে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত সীতাকুণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সংকট রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কবার্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।