রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসকে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। একটি গোষ্ঠীকে টাকা দিয়ে সন্তুষ্টি না করে সরকার নির্ধারিত ফি নেওয়া এবং তার তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহ খানেন আগে জমি নিবন্ধনের নামে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগে সেবা গ্রহীতারা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ আবদুল বারী সরদার ভবানীগঞ্জ সাব- রেজিস্ট্রি দপ্তরে যান। তিনি সাব- রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। দলিল নিবন্ধনে বিভিন্ন জটিলতা ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলেন। এজন্য সরকারি নির্ধারিত ফি এর তালিকা ‘সিটিজেন চার্টার হিসেবে ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি দলিল লেখক সমিতির নেতা ও সাধারণ দলিল লেখকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় সমিতি পরিচালনা করা বিএনপি পন্থী দলিল লেখকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি দলিল লেখকদের তাঁদের পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করার জন্য পরামর্শ দেন। সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে সহনীয় ও বাস্তবমুখী ফি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,‘আপনারা ফি এর তালিকা ঝুলিয়ে রাখবেন, তাহলে তাঁরা সহজে টাকা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না। দয়া করে গলাকাটা ফি নিবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা একটি পক্ষকে টাকার মাধ্যমে খুশি করার জন্য, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি নিয়ে থাকেন, এর প্রমাণ আছে। প্রতিনিয়ত টাকা দিতে হয় ওই পক্ষকে। এটা করতে যাবেন না। দলিল লেখক সমিতিকে চাঁদাবাজ মুক্ত করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
তিনি দ্রুত গণতান্ত্রিক উপায়ে সমিতির নির্বাচন করে স্বচ্ছতা ফিরে আনা এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার জন্য দলিল লেখকদের প্রতি আহ্বান জানান।
ভবানীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখক সমিতিকে দুর্নীতিমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এসময় সেখানে উপস্থিত দলিল লেখকেরা সংসদ সদস্যকে সমর্থন জানান।
উল্লেখ্য গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সমিতির নেতৃত্বে থাকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আত্মগোপন করার কারণে স্থানীয় বিএনপির অনুসারী দলিল লেখকেরা সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অফিসে জমি নিবন্ধনসহ সেবা নিতে আসা লোকজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে গত ৩১ এপ্রিল এনিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে সেবা গ্রহীতারা।