রাজশাহীর বাঘা-বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কার কাজ ধীরগেিত চলাচলকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। শনিবার সকালে একটু বৃষ্টির কারণে একটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় উল্টে যায়। বাঘা উপজেলা সদরে এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চলাচলকারী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের আমচত্বর থেকে শুরু করে বাঘা বাজারের পূর্বের পল্লীবিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। এরপরও সড়কটি দ্রুত সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এককু বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হয় যানজট। প্রতিনিয়ত ঘটে দুর্ঘটনা। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।
এই সড়কের পাশে বাঘা উপজেলা পরিষদ, বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘা পৌরসভা, বাঘা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহদৌলা সরকারি কলেজ ও বাঘা হযরত শাহ আব্দুল হামিদ দানিশমন্দ কামিল মাদরাসা। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অফিসের তায়িত্বপ্রাপ্তরা চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে চলতে গিয়ে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। এরপরও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
রাস্তার এমন করুণ পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এরপরও সমাধান না হওয়ায় রাস্তা সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করে উপজেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী দেওয়ান বলেন, বিদ্যালয়ে যেতে হলে এই সড়কটির বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় বাস, ট্রাকসহ চলাচল করে। ফলে একটু বৃষ্টি হলে কাদামাটি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
াঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা জিন্নাত আলী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও ড্রেনের কাজ শেষ করা দরকার। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী আবদুল মান্নাফ বলেন, সড়কটির পাশ দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের পুল স্থানান্তর ও অধিগ্রহণ স্থাপনা অপসারণ করতে জটিলতা ছাড়াও সড়কের পাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য সময় একটু বেশি লাগছে। এরপরও দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেক নির্দেশ দেয়া হয়েছে।