পলেস্তারা খসে আহত ২ শিক্ষার্থী

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ফাটল, দোকানঘরে চলছে ক্লাস

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ফাটল, দোকানঘরে চলছে ক্লাস

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১৫৪ নম্বর বুড়ন গোয়ালপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি এখন যেন এক মরণফাঁদ। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া আর পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়েছে। উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে এখন বাইরের দোকান ঘর ও খোলা আকাশের নিচে ছাপরা ঘরে চলছে খুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় ভবনের প্রতিটি পিলারে এখন ফাটল। গত দেড় মাসে অন্তত তিনবার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। সর্বশেষ গত শনিবার (৯ মে) ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত কুমার বর্মন যখন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করছিলেন, ঠিক তখনই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অর্নবের হাতের ওপর পলেস্তারা খসে পড়ে। শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জানান, ভবনের এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তো বটেই, শিক্ষকেরাও আতঙ্কিত। অনেক অভিভাবক জীবনঝুঁকির আশঙ্কায় সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত কুমার বর্মন বলেন, “পরিদর্শনের সময় চোখের সামনেই পলেস্তারা খসে পড়তে দেখলাম। শিশুরা প্রচণ্ড ভীত হয়ে পড়েছে। তারা কোনোভাবেই এখন আর ভবনের ভেতর ঢ়ুকতে চাচ্ছে না।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান জানান, ভবনের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে অফ পিরিয়ডে শিক্ষকরাও কক্ষের ভেতর বসেন না। দ্রুত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও নতুন ভবনের আবেদন জানিয়ে গত ৫ মে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকের আবেদনটি প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ ও স্থায়ী ভবনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ জানানো হয়েছে।” তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা জায়গায় ক্লাস করা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। তাঁরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে