তানোরে বিলকুমারী বিলের সেতুর সংযোগ ১৩ বছরেও পাঁকা হয়নি

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) :
| আপডেট: ১০ মে, ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম | প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
তানোরে বিলকুমারী বিলের সেতুর সংযোগ ১৩ বছরেও পাঁকা হয়নি

রাজশাহীর তানোরে বিল কুমারী বিলের সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মানের ১৩ বছরেও পাঁকা করা হয়নি। ফলে, ইট সলিং হেডিং বন্ডের ইট ভেঙ্গে ছোট বড় গর্তের পাশাপাশি এব্রো থেব্রো হয়ে পড়ায় চমর দূর্ভোগে পোহাচ্ছেন চলাচলকারী অটো, অটো ভ্যান, ভুটভুটি ও মটরসাইকেল চালকরা। বেহাল দশার এই রাস্তাটি পাঁকা না হওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। অপর দিকে মুক্ত বাতাসে ঘুরাঘুরি করতে আসা দর্শনার্থী ও  বিনোদন প্রেমিদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।  তানোর গোল্লাপাড়া বাজার থেকে সেতু পর্যন্ত এবং সেতু থেকে মোহনপুর সিমানার বাঁধ পর্যন্ত ইন ছলিং করা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে, মোহনপুর সীমানার বাধ থেকে সইপাড়া পর্যন্ত রাস্তা পাঁকা করা হয়েছে। 

অপর দিকে তানোর সীমানার রাস্তা (হেডিং বন্ড) ইট ছলিংই রয়ে গেছে। সংযোগ সড়কটি পাঁকা না করায় এই সেতু নির্মানের পুরো সুফল পাচ্ছে না জনসাধারণ। যে উদ্যেশ্য সেতু নির্মান করা হয়েছিলো রাস্তার কারনে তা ঠিকমতো কাজে আসছে না। সংস্কারের পর সংস্কার চলছে কিন্তু অবস্থা একই থেকে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বন্যার পানিতে সংযোগ রাস্তার ভাঙ্গছে। আর প্রতি বছরই তা সংস্কার করা হচ্ছে। তবে, গত দু বছর ধরে আর তেমন ভাবে ভাঙ্গেনী ওই রাস্তাটি। তাই জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি পাঁকা করার দাবি জানিয়েছেন তানোর মোহনপুর উপজেলার লাখো মানুষ। তানোর সদরের এই রাস্তাটি ১৩ বছরেও পাকা করা হয়নি। 

তানোর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর মোহনপুর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে শিব নদীর বিল কুমারী বিরের মাঝখানে ২১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১৩ সালে এর নির্মান কাজ শেষ হয়। এর পর সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মানের কাজ করা হয় দু' পার্শ্ব থেকে কেটে করা হয় রাস্তা।  চলে প্রায় ১ বছর ধরে। তবে, সিডিউলে অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে রাস্তা নির্মানের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। মাটির রাস্তা রেখেই ২০১৫ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। প্রায় ৬ মাস পর রাস্কাটি হেডিং বন্ড ইট সলিং রাস্তা নির্মান করা হয়। ওই বছরই বন্যায় সেতুর দু পার্শ্বের সড়ক ভেঙ্গে যায়। 

বিলের মধ্যে রাস্তা নতুন রাস্তা তৈরির জন্য দু' পার্শ্বে থেকে মাটি কেটে রাস্তা তৈরির ফলে বর্ষার বন্যায় ভেঙ্গে যায়। এভাবেই প্রতিবছরই গত প্রায় ১০ বছরে ৪০ কোটি টাকা খচর হয়েছে। তবুও রাস্তাটি এখনো পাঁকা করণ করা হয়নি। সেতুর এক পাশে পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার, অন্যপাশে মোহনপুর উপজেলার শ্যামপুর বাজার। দুই এলাকার মানুষ যাতে সহজেই বাজারে যাতায়াত করতে পারেন। স্থানীয়রা বলছেন, সেতু ও সড়ক নির্মানের পর থেকে প্রতিবছরই ভেঙ্গে যাচ্ছিলো রাস্তা। তবে, দু বছর ধরে রাস্তাটি আর ভাঙ্গেনি। তাই রাস্তা পাকা করা জরুরী। রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় দিনদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বঢবসা বানিজ্যেও প্রভাব পড়ছে। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, সড়কটি পাকা করনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। রাস্তাটি প্রতি বছরই ভেঙ্গে যায় প্রতি বছরই সংস্কার করা হয়। দু বছর ধরে রাস্তাটি আর ভাঙ্গেনী তাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাকা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে