চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে গেছে। মাঠে সোনালী ধান গোলায় উঠতে শুরু করেছে। এতে করে কৃষকদের মুখে হাসির আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে বৈ কি। কারন উৎপাদন খরচের চেয়ে উৎপাদিত ফসলের দামের পরতা মিলা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন কৃষি নির্ভর পরিবার। হাটহাজারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবদ মোঃ মেজবাহ উদ্দিন জানান, এই উপজেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৬০০ হেক্টর জমির। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ১৭৫৫৮ মে.টন (চালে)। এদিকে আবাদের লক্ষ্যমাত্র ছড়িয়ে এবার বোরো আবাদ অর্জন - ৪৮০০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ২ হাজার হেক্টর বেশি। ইতিমধ্যে বোরো ধান কর্তন হয়েছে- ৩২২০ হেক্টর জমির। যা শতকরা হিসাবে ৬৫ ভাগ। লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য উৎপাদন - ১৮০০০ মে.টন (চালে)। এখনো ধান কর্তন চলমান রয়েছে। হঠাৎ অকাল বৃষ্টিপাতে জমিতে উৎপাদিত ধান এক সাথে কাটতে গিয়ে কৃষি শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারন করে । শ্রমিক সংকটের কারনে প্রতিযোগীতা মুলক ভাবে ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১২শ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা হয়ে গেছে। আবার তিন বেলা ভাত, চা, বিড়ি দিয়ে দৈনিক মজুরি দিতে হয়েছে ১২শ টাকা।
উদালিয়া এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা প্রকাশ বড়ুয়া জানান এবার সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। কিন্তু গ্রামের ধানের বেপারীরা প্রতি কেজি ধান ২৫ টাকার বেশী দামে ক্রয় করতে আগ্রহ নয়। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এদিকে ফসলের উৎপাদন খরচের চেয়ে উৎপাদিত ফসলের বিক্রি মূল্যের পরতা মিলানো যাচ্ছে না।এতে করে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে বৈকি। এনায়েতপুরের কৃষক অহিদুল আলম, মির্জাপুরের স্বপন, কাজিরখীলের লোকমান মেম্বার সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে কৃষি প্রনোদনা বিতরন, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে গ্রামের কৃষকদের নিয়মিত যোগাযোগ, কৃষি কাজে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, শুস্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা ও বর্ষার সময় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য খাল খননের সরকারের উদ্যোগ, সহজ শর্তে বিভিন্ন ব্যাংকে কৃষি ঋন দানের ব্যবস্থা কৃষকদের উৎসাহিত করার কারনে এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমান জমিতে এবার কৃষকেরা বোরো আবাদে অনুপ্রাণীত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।