চট্টগ্রামের শিল্প, বন্দর ও পর্যটনসমৃদ্ধ জনপদ সীতাকুণ্ডে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রামের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই নেতা জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও আইনি জটিলতার কারণে এখনো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেননি। আজ মঙ্গলবার ১২ মে অনুষ্ঠিত আদালতের গুরুত্বপূর্ণ শুনানিকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তাঁর নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শপথ গ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তিতে আদালতের সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আদালত ইতিবাচক রায় দিলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুতই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তাঁর সমর্থকরা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আসলাম চৌধুরী একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলীয় কর্মসূচিতে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই অতীতে তাঁকে একাধিক মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিতভাবে মামলা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয়। পাশাপাশি তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নেতাকর্মীরা। তবে দীর্ঘ প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা। আসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছেন। আদালতের প্রতি আস্থা রেখেই তিনি ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন। এদিকে আদালতের শুনানিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডসহ আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল, মতবিনিময় সভা ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও সীতাকুণ্ডে এখনো পরিকল্পিত নগরায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা ও পর্যটন অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে কুমিরা, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, ভাটিয়ারী ও গুলিয়াখালী এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণসহ নানা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ভোগান্তির কারণ হয়ে রয়েছে।
সীতাকুণ্ডবাসীর প্রত্যাশা, আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারলে শিল্পায়নের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও নতুন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম গতি পাবে। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, মহাসড়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে সীতাকুণ্ড দেশের অন্যতম আধুনিক শিল্প ও পর্যটন নগরীতে পরিণত হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আজকের আদালতের রায় শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার শপথ গ্রহণের বিষয় নয়, এটি সীতাকুণ্ডের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো সীতাকুণ্ডবাসী।