দুর্যোগকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের শরণখোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক এক অ্যাডভোকেসি সভা। ১২ মে, ২০২৬ (মঙ্গলবার) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় দুর্যোগের সময় বিশেষ করে মেয়ে শিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
Strengthening ChildrenÕs Voice and Leadership in Addressing Climate Change and Disaster Risk in Bangladesh শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শিশু ফোরামের উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস)। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শিশির কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের নেতৃত্ব বিকাশ ও সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ঝুঁকি ও নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা সম্পর্কে সচেতন করে তুললে তারা ভবিষ্যতে সমাজে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নারী ও শিশু সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত দেন বক্তারা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাফালবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সাংবাদিক আ. মালেক রেজা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. আলী আজিম, সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. সালাহ উদ্দিন, রাজাপুর কালভার্ট সাইক্লোন শেল্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান, সাংবাদিক সাবেরা ঝর্নাসহ স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং শিশু ফোরামের প্রতিনিধিরা।
জেজেএসের অ্যাডভোকেসি অফিসার তারিক বিন ওয়াহিদের সঞ্চালনায় সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিসিই মো. জাহাঙ্গীর আলম। সভায় শিশু ফোরামের সভাপতি তায়্যিবা আক্তার দুর্যোগকালে শিশুদের নানা ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, বিশেষ করে কন্যাশিশুরা দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। শিশু ফোরামের সহ-সভাপতি ইভা ও সদস্য সচিব মুশফিকা আক্তার সাইক্লোন শেল্টারে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ওয়াশরুম, মাতৃদুগ্ধ কর্নার, হাইজিন সুবিধা, র্যাম্প ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাবি জানান। একই সঙ্গে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়। দাবিগুলোর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদে ব্রেস্টফিডিং ও হাইজিন কর্নার স্থাপনের আশ্বাস দেন।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা জলবায়ু সহনশীল ও শিশু-সংবেদনশীল সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ইগত-কঘঐ এবৎসধহু-এর অর্থায়নে জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার উপকূলীয় ১০টি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের চারটি ওয়ার্ডে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।