পুঠিয়ায় তিনটি পুকুরে প্রকাশ্যে মৎস্য শিকার

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
পুঠিয়ায় তিনটি পুকুরে প্রকাশ্যে মৎস্য শিকার

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ায়। উপজেলা সদরে থাকা রাজাদের খনন করা বিশাল তিনটি পুকুরে প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষ মৎস্য শিকার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুঠিয়া সদরে কয়েকটি রাজার বসবাসের স্থল ছিল। রাজাদের রাজপ্রাসাদ বহিঃ শক্রদের হাত থেকে রক্ষা করা, রাজপ্রাসাদের ভিতর কোনো রকম বন্যা প্রবেশ হতে না পারে এবং উচ্চু স্থানে রাজপ্রাসাদ নির্মাণ হলে দেখার সুন্দর্য্যে বৃদ্ধি হবে। এই কথা চিন্তা করে তখন রাজপ্রাসাদের চতুরদিকে বিশাল বিশাল পুকুর খনন করা হয়ে ছিল। তখন রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করার পথ ছিল শুধুমাত্র চারটি। রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রাচীর হিসাবে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর ছয়টি পুকুর খনন করা হয়। আর দীঘিরগুলোর আলাদা আলাদা নামকরণ করে, মাঝখানে রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে রাজাদের খনন করা দীঘিগুলোতে আধুনিক ভাবে মৎস্য চাষ করা হয়ে থাকে। যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকেন,তাদের কাছের নেতাকর্মীরা পুকুরগুলো সরকারি খাস অংশ দখল নিয়ে মৎস্য চাষ করে থাকেন। এর ভিতর একটি পুকুর সম্পূর্ণ সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত পুকুর। বাকি দুইটি পুকুরের ভিতরে কিছু অংশ খাস,কিছু অংশ অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে। শিব সাগর পুকুরটি সম্পূর্ণ খাস খতিয়ান ভুক্ত পুকুর। তারপরও এখানে ৮ হতে ১১ তারিখ পর্যন্ত বিএনপির নিজ দলের কিছু নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুকুর ইজারা নেওয়া ব্যক্তির রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকার কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মৎস্য শিকার করছে বলে এলাকাবাসীরা এই প্রতিবেদকে জানিয়েছেন। ইজারাদার উপজেলা পরিষদ হতে ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে তিন বছরের জন্য পুকুর ইজারা নিয়ে ছিলেন। তার এখনো দুই বছর পুকুরে মৎস্য চাষ করার সুযোগ রয়েছে। বিএনপির এক নেতার পুকুরে বেশ কয়েক মাস ধরে শ্যামসাগর এবং গোবিন্দ সাগরে প্রশাশ্যে মৎস্য শিকার করা হচ্ছে। সেলিম আহাম্মেদ নামের বিএনপির সমর্থক বলেন, যাদের পুকুরে প্রকাশ্যে মাছ মারা হচ্ছে। তারা বিএনপি করে কিন্তু নিবার্চনের সময়ে বিরোধী প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনে কাজ করে ছিলেন। গিয়াস উদ্দিন সুমন বিএনপির কর্মী বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতপার্থক্য হওয়ায় নির্বাচনের পর গোবিন্দ সাগক এবং শ্যাম সাগক পুকুর দুইটিতে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ লুটপাট করা হয়েছে। রাজপ্রাসাদের বেষ্টনীর ভিতরে থাকা অন্য গোপাল সাগর, হুগলা চৌকী, বেকী চৌকী পুকুরে মৎস্য চাষ বহাল তবিয়তে করা হচ্ছে।   এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, সাধারন মানুষ প্রকাশ্যে মাছ শিকারের ব্যাপারে আমার নিকটে পুকুর ইজারাদাদের পক্ষ হতে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, পুকুর ইজারা নেওয়া ব্যক্তিরা আমার নিকট লিখিতভাবে সহতা চাইলে।  আমি আইনী পন্থায় সহযোগিতা করব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে