ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, ফিরছে রাজধানীর কর্মচাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, ফিরছে রাজধানীর কর্মচাঞ্চল্য

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটি শেষ হতে না হতেই রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। অফিস-আদালত, ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতির মধ্যেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ফিরছেন চাকরিজীবীরা। ফলে কয়েকদিনের নীরবতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাজধানীর সড়ক ও পরিবহন কেন্দ্রগুলো।

রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের আনাগোনা বাড়তে দেখা যায়। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় অতিরিক্ত ভিড় বা বড় ধরনের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি। পরিবহন ব্যবস্থাও ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার (১ জুন) থেকে অফিস-আদালত ও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান খুলবে। এ কারণে ছুটির শেষ দিনে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, একের পর এক দূরপাল্লার বাস ঢাকায় প্রবেশ করছে। বাস থেকে নেমেই যাত্রীরা ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। কেউ গণপরিবহনে, কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন।

বগুড়া রুটের একটি পরিবহনের চালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, “আজ যাত্রীর চাপ আছে, তবে বিকেলের পর আরও বাড়বে। এখন যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছিলেন।” তিনি জানান, বগুড়া থেকে ঢাকায় আসতে এবার তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি।

চাঁদনী ট্রাভেলসের চালক মো. আব্দুর রাজ্জাকও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “গাড়ি প্রায় পূর্ণ করেই ঢাকায় আসছি। তবে ঈদের সময় যে পরিমাণ যাত্রী থাকে, সেই চাপ এখনো দেখা যাচ্ছে না।”

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চে করে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরাও স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। সদরঘাটে আসা কয়েকজন যাত্রী বলেন, নদীপথে যাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক। বেশিরভাগ লঞ্চ নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যে পৌঁছেছে এবং অতিরিক্ত ভিড়ও ছিল না।

এদিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় গাড়ির উপস্থিতি বেড়েছে। তবে এখনো স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতো যানজট তৈরি হয়নি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার যাত্রীর চাপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। একদিকে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন অনেকে, অন্যদিকে ঈদের সময় বাড়ি যেতে না পারা কিছু মানুষ এখনো পরিবার নিয়ে গ্রামের পথে যাচ্ছেন। ফলে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় চাপ কম পড়ছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে।

যাত্রীরা বলছেন, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে সোমবার (১ জুন) অফিস খোলার আগে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে