কালীগঞ্জ শহরের বাজার চাঁন্দিনাটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে সেটাও ১৩ বছর পূর্বে। এখনও সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচেই ব্যবসা করছেন দুই শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি।যে দোকান গুলোতে সব সময় খরিদ্দার থাকেন আরো কমপক্ষে দুই থেকে তিন শতাধিক।যারা সকলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেনাবেচাকরেন।কিন্তু ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন হাটচাদনির সংস্তার বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহন করছে না।
ব্যবসায়িরা জানান, ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর দোকানে বসে ছিলেন চাউল ব্যবসায়ি অজয় কুমার। হঠাৎ ছাদের একটি অংশ ধসে তার মাথার উপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ সময় আরো দুইজন আহত হন। ভবনটির ছাদের পাশ দিয়ে রেলিং করায় বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকতো। যে কারনে অল্প সময়ে ভবনটি নষ্ট হয়েছে। এখানে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের এখানে ব্যবসা করেই সংসার চলে। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসায়িরা আছেন জীবনের ঝুঁকিতে। এই চাঁন্দিনাটি ভেঙ্গে নতুন করে নির্মানের জরুরি প্রয়োজন।ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের প্রধান কাঁচা বাজারটি ১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে ভবন নির্মান করা হয়। হাট-চাঁদনী বলে পরিচিত এই চাঁন্দিনাতে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। যার বেশির ভাগ সবজী ও মুদি দোকান ব্যবসায়ি। এই চাঁন্দিনার দুই পাশে রয়েছে আরো দুইটি টিনসেডের চাঁন্দিনা। যার একটিতে আটা-ময়দা আর অপরটিতে মাছ ও মাংশ বিক্রি হয়। তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম রফি উদ্দিনের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যায়ে এই চাঁন্দিনা নির্মিত হয়। হাটচাঁদনিটিতে ‘বাঁশের চরাট বা বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে যাতে পলেস্তারা ভেঙে না পড়ে। একসময় পরিত্যক্ত ভবন ঘোষণা করে সাইন বোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সাইনবোর্ডও নষ্ট হয়ে হারিয়ে গেছে। কিন্তু দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।মূল ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। সম্পূর্ণ ভবনটি ধসে পড়লে বড় ধরণের জীবনহানি ঘটতে পারে এমন আশংকা ব্যবসায়িদের।
কিন্তু ব্যবসায়িরা বিকল্প কোনো জায়গা পাচ্ছেন না, ফলে ঝুঁকি নিয়েই ব্যবসা করে যাচ্ছেন। কালীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বার বার ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছেন ব্যবসায়িদের। ঝুকিঁপূর্ণ চান্দিনা ভবনটি খালি করে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও আজো কেউ জায়গা ছাড়েনি। ব্যবসায়িরা বলছেন, তারা সবাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি। এখানে ব্যবসা করেই তাদের সংসার চলে। এখান থেকে সরে গেলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। কালীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছেন বাজেট না থাকায় তারা কিছুই করতে পারছেন না। তবে একটি বড় ধরনের চারতলা চান্দিনা ভবন নির্মানের প্রশাসনিক অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল অনেক আগেইও মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদন পেলে তারা নকশা তৈরী করে অর্থ বরাদ্ধের জন্য প্রেরন করবেন।চলতি বছর ৬ জুন গিয়ে দেখা গেছে ছাদের পলেষ্টারা খুলে খুলে পড়ছে। ব্যবসায়িরা মাথা বাঁচাতে বাঁশের খুটি লাগিয়ে চাটাই দিয়ে আড়াল করে রেখেছেন। চাঁন্দিনার ব্যবসায়ি উত্তম কুমার,সুকুমার বাবু বলেন,এতো ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করা যায় না। নিচে কেনাবেচা করলেও চিন্তা থাকে ছাদের দিকে ব্যবসার প্রয়োজনে অনেক টাকা মার্কেটে ছড়ানো রয়েছে। এই ব্যবসা ছেড়ে দিলে টাকা গুলো ফেরত পাবেন না। যে কারনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবাসা করে যাচ্ছেন। আরেক ব্যবসায়ি ইসলাম জানান, মাঝে মধ্যে মনে হয় প্রতিষ্ঠান ফেলে চলে যায়। জীবন হাতের মুঠোই নিয়ে ব্যবসা করা যায় না।এখানে বেশির ভাগ কাঁচা সবজি, চাল, ডাল, চিড়া, মুড়ি, গুড় ও মুদি দোকান।দুই পাশে রয়েছে আরও দুটি টিনশেড ভবন। ভবন দুটির একটিতে আটা-ময়দা,অপরটিতে মাছ-মাংস বিক্রি হয়।একসময় উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবনটির দায়িত্ব এখন কালীগঞ্জ পৌরসভার।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী জানান, ২০১৩ সালের ২ মে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। ব্যবসায়িদের ওই জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা যাননি। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা যচ্ছেন না।