খুলনায় অসুস্থ মা-বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

এফএনএস (এম এ আজিম; খুলনা) : | প্রকাশ: ৮ জুন, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
খুলনায় অসুস্থ মা-বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

খুলনার মহানগরীর লবণচোরায় উগ্র ও নেশাগ্রস্থ ছেলের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতন ও নিজ গৃহ হতে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সম্প্রতি নেশাগ্রস্ত ছেলের ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম প্রতিকারের দাবিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।  লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নগরীর লবনচোরা ৬৭, মুজাহিদ পাড়া গলি এলাকার আনোয়ারা বেগমের স্বামী আনোয়ার হোসেন মৃধা দীর্ঘ ৫ বছর যাবত ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশয়ী অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে। তার স্বামীর অর্জিত অর্থ দিয়ে নিম্ন ঠিকানায় সেমি পাকা ঘর করে সেই ঘরে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে বসবাস করে আসছে। তাদের ছেলে নুরুল ইসলাম সুমনও ঘরে একইসাথে বসবাস করে। কিন্তু অত্যান্ত সুঃখের বিষয় ছেলে সুমন ও তার স্ত্রী রিমা মিলে শয্যাশায়ী জন্মদাতা পিতা ও গর্ভধারিণী মাকে উক্ত বসত ঘর হতে বের করে খোলা আকাশের নিচে ফেলে দেয়। ফেলে দেওয়ার একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায়  গরীব ও অসহায় কন্যা তাসলিমা আক্তার অন্য ছেলে মেয়েরা জামাতা ও আত্মীয় স্বজন তুলি, এর বাসায় আশ্রয় নিয়ে কোনরকম জীবনযাপন করে আসছে। এমনকি এ-সব ঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই হিংস্র সন্তান সুমন সকলকে আপমান করে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে বসত ঘরে ফিরে যেতে পুলিশ-প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, এই যুবকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে নিজের বাবা-মা, ভাই-বোনের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। 

এছাড়া নিয়মিত মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেলে মারধর, গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সুমনের ভাই ও বোনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মাদকাসক্তির কারণে সুমনের আচরণ দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যার কারনে  পুরো পরিবার রয়েছে আতঙ্কের মধ্যে এমন অভিযোগ পরিবারের।  ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত ছোট্ট ঘর থেকেই ছেলে তাদের বের করে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তার অসুস্থ স্বামী চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের খরচ দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো নিয়মিত গালিগালাজ ও মারধর করে। সুমনের বাবা আনোয়ার হোসেন মৃধা প্রায় চার বছর আগে ছেলের এমন আচরণের কারণে স্ট্রোক করে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।  স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই মাদক সেবন করে এলাকায় বিশৃঙ্খল আচরণ করেন। এলাকাবাসীরও প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে