দৌলতপুরে গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ ও বীজ উৎপাদনে বিপ্লব

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ৬ জুন, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
দৌলতপুরে গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ ও বীজ উৎপাদনে বিপ্লব

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে ও আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রথমবারের মতো ১০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ ও পরবর্তীতে বীজ (কন্দ) উৎপাদনের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দৌলতপুরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১২ হেক্টর। কৃষি বিভাগের এই বিশেষ উদ্যোগের অগ্রগতি ও মাঠের সার্বিক চিত্র দেখতে শনিবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার খলিশাকুণ্ডি ইউনিয়নের উত্তর চর খলিশাকুণ্ডি মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। 

মূলত সরকারের দেওয়া প্রণোদনার পেঁয়াজ ক্ষেতসমূহ দেখভাল করা এবং গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ উৎপাদন কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রথমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের মাঠ এবং পরবর্তীতে পিয়াজ বীজ উৎপাদনের প্রদর্শনী প্লটসমূহ বিস্তারিতভাবে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো: জামাল উদ্দীন, যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, কুষ্টিয়া খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ওয়াহিদুজ্জামান।

মাঠ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেহেনা পারভীন, অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি অফিসার আলী আহমেদ, খলিশাকুণ্ডি ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার একরামুল হক এবং ছিলিমপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার উজ্জল আলী উপস্থিত ছিলেন। সফরকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বীজ উৎপাদনে দৌলতপুরের মাটি ও আবহাওয়া অত্যন্ত উপযোগী। সরকারের এই সময়োপযোগী প্রণোদনা এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির ফলে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে দেশের পিয়াজ সংকট দূরীকরণে দৌলতপুর উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে