ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে চরম অনাহার আর অবহেলায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন অন্ধ সন্তানের পাশে পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার বিকালে সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তিন অন্ধ ও বাবা পঙ্গু এ খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ অসহায় পরিবারটির মাঝে খাদ্য সামগ্রী নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ১০ হাজার টাকা বিতরণ করেন।এই অসহায় পরিবারটির দুঃখ-দুর্দশার কথা ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ জানান। বিষয়টি জানার পরপরই তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ এবং খাদ্যসহায়তা প্রদান করেন।অসহায় তিন অন্ধ মেয়ে ও পঙ্গু বাবার পাশে উপজেলা প্রশাসন দাঁড়ানো এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের শামসুল ইসলামের জীবন দীর্ঘ সংগ্রামের নাম। চরম দারিদ্র্য, তিন অন্ধ সন্তান এবং দুর্ঘটনায় প্গুত্ব বরণ করা স্ত্রীকে নিয়ে বছরের পর বছর মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবনের নানা প্রতিকুলতার কাছে বারবার পরাজিত হলেও পরিবারের সদস্যদের আগলে রেখে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই বৃদ্ধ পিতা।শামসুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি। চোখের আলো ভালো থাকায় বড় মেয়ে রোকেয়া খাতুনকে অনেক কষ্টে বিবাহ দিয়েছিল। পরে মেঝো মেয়ে রুবিনা খাতুনের বিয়ে হয়। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে স্বামীর সংসার টেকেনি রুবিনা খাতুন। স্বামীর অভিযোগ ছিল,রুবিনা চোখে দেখতে পায় না। ফলে একসময় বাবার বাড়িতেই ফিরে আসতে হয়।বর্তমানে রুবিনা তার দুই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ভাই-বোন সেলিম ও রাশিদার সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। চোখে দেখতে না পারলেও অনুমান ও অভ্যাসের ওপর নির্ভর করেই তারা দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে থাকেন। তাদের জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় শামসুল ইসলামের স্ত্রী সালেহা বেগম একটি পায়ের কার্যক্ষমতা হারান। ফলে তিন অন্ধ সন্তান ও প্গু স্ত্রীকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন পরিবারের একমাত্র ভরসা শামসুল ইসলাম।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ সরেজমিনে পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ান।তিনি পরিবারটিকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও শুকনা খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। পাশাপাশি তিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সন্তানের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিরূপণে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে তাদের চোখ পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেন। এছাড়া সালেহা বেগমের চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইল চেয়ার দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।সহায়তা বৃদ্ধ শামসুল ইসলাম বলেন, জীবনে এই প্রথম কেউ আমাদের খোঁজ নিতে এসেছে। এতদিন কেউ আমাদের কষ্টের কথা জানতে চায়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নাঈম সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক ভাবে এটি রাতকানা রোগের জটিল কোনো ধরন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাতকানা রোগের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা দিনের বেলাতে স্বাভাবিক ভাবে দেখতে পারেন না। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত ভাবে রোগের ধরন ও চিকিৎসা সম্পর্কে বলা সম্ভব হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন,পরিবারটি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারি ভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।