সিলেটের প্রখ্যাত ওলি হযরত শাহজালাল (রহ.) ইয়েমেনী দরগাহে দানের অর্থ ৭০৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নিলেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। মাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, শত শত বছরের প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সোমবার বিকেলে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। সেখানে মাজারের দুটি দানের ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা নতুন দানবাক্স থেকে অর্থ বের করে গণনার কাজ শুরু করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে গণনার কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো বক্তব্য দেননি সারওয়ার আলম। পরে এ বিষয়ে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। সম্প্রতি মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কয়েক দিন আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দান সংগ্রহ প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
এরই মধ্যে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তার সমর্থকেরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সারওয়ার আলম সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাকে প্রত্যাহারের পেছনে একটি প্রভাবশালী মহলের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন সারওয়ার আলম। পরে সমর্থকদের স্লোগানের মধ্যেই তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। দুপুরে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় করেন।
উল্লেখ্য, সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে। তারা নিয়মিতভাবে এসব মাজারে দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনা থাকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এদিকে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবিতে সোমবার (২২ জুন) সিলেটে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর আগে রোববার (২১ জুন) একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।