সরাইলে তিতাস নদীর দাপুটে দখলদার বালু খেকু আকবরের বিরূদ্ধে মামলা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গত সোমবার উপজেলার পাকশিমুলে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এন.এম কায়সার ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আকবরের বিরূদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলা ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৫-৭ বছর ধরে উপজেলার পাকশিমুল এলাকায় সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় তিতাস থেকে বালু উত্তোলন করে নদীতে রেখে বিপনণ করে আসছিল আকবর। শুধু বালু নয় অন্তরালে সেখানে জুয়াসহ নানা অনৈতিক ব্যবসা গড়ে তুলার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় ইউপি ভূমি অফিসের নাকের ডগায় বসে বুক ফুলিয়ে এই অপকর্ম করলেও তারা ছিল নীরব। ইউনিয়ন ও উপজেলার একাধিক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার শেল্টারেই আকবর এতদিন নিরাপদে ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার শেল্টারে আকবর প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ৬-৭ বছর ধরে দাপুটে এই অবৈধ ভাবে ব্যবসা করে আসছে। টাকা দিয়ে কথিত কিছু সংবাদ কর্মীসহ অনেককে ম্যানেজ করে রাখত। জিজ্ঞেস করলেই নিজেকে যুবলীগের বড় নেতা দাবী করে আকবর বলত, ‘আমি নদীর জায়গা ইজারা এনেছি। কিছু জায়গা ক্রয় করেছি। বৈধভাবে বালু উত্তোলন করছি। আমাকে ধরার কোন লোক নেই।’ অবশেষে গত সোমবার অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এন.এম কায়সার। ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই সটকে পড়েন অভিযুক্ত আকবর। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আকবরের বিরূদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসিকে) প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কুমুদ লাল দেবনাথ বলেন, ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করে নদীতে রেখে ব্যবসা করছেন আকবর। এ বিষয়ে তাকে একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি আমলে নেননি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এন.এম কায়সার বলেন, অভিযুক্ত আকবরকে আগেও একই বিষয়ে বলা হয়েছিল। তিনি অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন ও মজুদ রাখার কাজ থেকে বিরত থাকার আশ্বাস দিলেও তা করেননি। তাই বিধি মোতাবেক তার বিরূদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, নদী খাল ও পরিবেশের ক্ষতি করে বালু উত্তোলনের বিরূদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদের বিরূদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।