আশার আলোয় ভাসছে সীতাকুণ্ড, আসলাম চৌধুরীকে ঘিরে নতুন সূর্যোদয়

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
আশার আলোয় ভাসছে সীতাকুণ্ড, আসলাম চৌধুরীকে ঘিরে নতুন সূর্যোদয়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পর তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনাকে ঘিরে উপজেলাজুড়ে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে। শিল্প, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় এই জনপদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আশাবাদের কথাও শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আসলাম চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। দীর্ঘ কারাবাস শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসনে বিপুল ভোটে বিজয় তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন বলেও তারা মনে করেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও আইনি জটিলতার কারণে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের একটি অংশের অভিমত, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রিভিউ আবেদন করা হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশাবাদ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সীতাকুণ্ডের উন্নয়নযাত্রার নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক নানা সংকটে সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। জাতীয় সংসদে কার্যকর প্রতিনিধিত্বের অভাবে বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পও দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে বলে তাদের অভিযোগ। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সক্রিয় ভূমিকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে তারা আশা করছেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিপব্রেকিং শিল্প, রি-রোলিং মিল, ভারী শিল্পাঞ্চল এবং পর্যটন সম্ভাবনার কেন্দ্র হিসেবে সীতাকুণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, নিরাপত্তা সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে শিল্পাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হলে শিল্পাঞ্চলে অবৈধ চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, চন্দ্রনাথ পাহাড় ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আন্ডারপাস নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পাহাড়ি ঢল নিয়ন্ত্রণ এবং উপকূলীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করার দাবিও দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দুর্যোগকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে আসলাম চৌধুরী স্থানীয়ভাবে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। করোনা মহামারি ও রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও দলমত নির্বিশেষে সকল মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসনের মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্পের নিরাপত্তা এবং জনসেবামুখী নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে। তাদের বিশ্বাস, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কার্যক্রম শুরু হলে সীতাকুণ্ডের স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে। শিল্প, পর্যটন, যোগাযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনাময় সীতাকুণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পর্যটন জনপদ হিসেবে সীতাকুণ্ড আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে, এমন আশাই করছেন এখানকার বাসিন্দারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে