সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার নির্ধারিত ১২টি মৌজার গ্রামীণ এলাকাকে পৌর এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। স্থানীয় সরকারের পরিধি সম্প্রসারণ এবং নাগরিক সেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গত ১৪ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (১) অনুযায়ী জৈন্তাপুর উপজেলার তফসিলভুক্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোকে পৌর এলাকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে এসআরও নং ২৮১-আইন/২০২৬ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার। গেজেট অনুযায়ী পৌর এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১২টি মৌজা হলো- ডিবি হাওর, হিলাতৈল, গোবিন্দপুর, নিজপাট, পূর্ব লক্ষ্ণীপ্রসাদ, গুরারাই, জাফলং, দরবস্ত, রাংপানি, লালাখাল, চিকনাগুল এবং চারিকাটা। প্রজ্ঞাপনে এসব মৌজার নির্ধারিত জে.এল. নম্বর ও দাগ নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের আপত্তি থাকলে তা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিতভাবে দাখিল করা যাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (৪) অনুযায়ী, কোনো আপত্তি উত্থাপিত হলে সরকার তা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। আপত্তি নিষ্পত্তির পর নতুন পৌরসভা গঠনের বিষয়ে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জৈন্তাপুর উপজেলার এসব এলাকায় পৌরসভার আওতায় নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও সম্প্রসারিত হবে। বাসিন্দারা উন্নত সড়ক যোগাযোগ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির সরবরাহ, সড়কবাতিসহ বিভিন্ন আধুনিক পৌরসেবার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণ, স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।