বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রোপা আমন মৌসুমের জমি প্রস্তুতের কাজে। মহেন্দ্রচালিত ট্রাক্টর দিয়ে চলছে জমি চাষ। আর সেই চাষের পেছনেই দেখা মিলছে গ্রামবাংলার চিরচেনা এক আনন্দঘন দৃশ্য। জমি থেকে উঠে আসা দেশীয় মাছ ধরতে নেমে পড়ছেন নারী-পুরুষ ও শিশুরা। বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়া কৃষিজমিতে পানি কমে যাওয়ার পর জমি চাষ শুরু হলে মাটির নিচে ও জমে থাকা পানির বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ওপরে উঠে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয়রা জাল, খালুই, ডালা ও ছোট ছোট পাত্র নিয়ে নেমে পড়ছেন মাছ ধরতে। কেউ হাত দিয়ে, কেউ ছোট জাল দিয়ে আবার কেউ খালুই নিয়ে মাছ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুদের কোলাহল, বড়দের হাসি-আনন্দ আর মাছ ধরার ব্যস্ততা যেন বন্যার দুর্ভোগের পর মানুষের মুখে ফিরিয়ে আনছে স্বস্তির হাসি। এটি শুধু মাছ সংগ্রহ নয়, বরং গ্রামীণ মানুষের কাছে এক আনন্দঘন সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যার সময় খাল-বিল ও নদীর দেশীয় মাছ পানির সঙ্গে কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে জমি চাষের সময় এসব মাছ ওপরে উঠে এলে আশপাশের মানুষ মাছ ধরতে ছুটে আসেন। বর্তমানে রাউজান পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষিজমিতে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, বন্যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়লেও জমি চাষের সময় দেশীয় মাছ পাওয়ায় কিছুটা হলেও আনন্দ ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতির এক সুন্দর উদাহরণ। বন্যা-পরবর্তী রাউজানের কৃষিজমিতে মহেন্দ্রের পিছু পিছু মাছ ধরার এই দৃশ্য যেন প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।