চাটমোহরে ডিজেল সংকটে বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) :
| আপডেট: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম | প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
চাটমোহরে ডিজেল সংকটে বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

শস্য ভান্ডারখ্যাত পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ও ডিজেল সংকটের কারণে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক। একইসাথে চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। আবাদ করতে গিয়ে কৃষক যেন যুদ্ধে নেমেছেন।   চাটমোহরে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকদের অনেক গভীরে গর্ত করে পাম্প বসাতে হয়েছে। পানি কোনো মতে পাওয়া গেলেও চাহিদা মোতাবেক ডিজেল পাওয়া না যাওয়ায় বেশির ভাগ সময় সেচ পাম্প বন্ধ করে রাখা হচ্ছে।  ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়া এবং খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি ফসল আবাদ ও ফলন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধানের শীষ বের হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ নিশ্চিত না করতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এ উপজেলাতে বোরোসহ ১৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ১২৬টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ উপজেলাতে প্রায় ২০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে মিলছে মাত্র ১০ হাজার লিটার। উপজেলার বোয়াইলমারী গ্রামের কৃষক জুলফিকার আলী বলেন,ডিজেল সংকটের কারণে ফসল উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বাইরে থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ধান এখন থোড় অবস্থায় রয়েছে,কিছু ক্ষেতে শীষ বের হচ্ছে। এ সময়ে সেচ দিতে না পারলে ধান চিটা হয়ে যাবে এবং ফলন কমে যাবে। আরেক কৃষক আঃ মতিন বলেন,গত শনিবার পাম্প থেকে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। আজ মঙ্গলবার আবার দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি,কখন পাবো জানিনা। বাইরে থেকে দু’দিন ১৪০ টাকা দরে ডিজেল কিনেছি। তাছাড়া পানির স্তর নিচে নামছে। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়া এবং ১২০ ফুট গভীরেও পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক সেচ দিতে পারছেন না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।  উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান জানান,কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন,এ ধরনের সংকট থাকলে বোরো আবাদে উপর প্রভাব অবশ্যই পড়বে। আশা করছি এ সংকট থাকবে না। এদিকে বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের জমির আগাছা পরিষ্কার ও বালাইনাশক স্প্রে করছেন কৃষক। দিগন্ত মাঠ এখন সবুজের সমারোহ। লোডশেডিং ও সেচ সংকট না হলে কৃষক চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান,বোরো ধানের উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। চাহিদা মোতাবেক ডিজেল সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে