বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌর বাজার এলাকার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের উদাসীনতা ও সঠিক তদারকির অভাবে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সিডিউলে উন্নত মানের বিট বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে সাধারণ মাটি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে বৃষ্টির পানিতে রাস্তাটিতে কাদা মাটি সৃষ্টি হওয়ায় জনভোগান্তিতে পড়েছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ।
জানাযায়, খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌর হাট এলাকা থেকে ৩ হাজার ৮ মিটার থেকে ৬ হাজার ৩২০ মিটার পর্যন্ত রাস্তাটির সংস্কার কাজ পায় রাজশাহীর বোয়ালিয়া ঘোড়ামারা সাহেব বাজার এলাকার ‘বরেন্দ্র কনষ্ট্রাকশন লিমিটেড’। ২ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৮৬ টাকা মূল্যের এই কাজটির চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫১৭ টাকা। গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কার্যাদেশ পাওয়া এই কাজটি শেষ হওয়ার কথা ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে। তবে কাজটির সময় বাকি থাকতেই শুরুতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার কাজ শুরু হলেও সেখানে বালুর পরিবর্তে নামমাত্র বালুমিশ্রিত মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এই মাটি ব্যবহারের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমান ধান কাটার মৌসুম চলছে ওই এলাকার কৃষকদের ধান ঘরে তোলা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নিয়মিত গাড়ি আটকে গিয়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এলাকা বাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তায় বালু দেওয়ার কথা থাকলেও তারা মাটি দিচ্ছে। এই মাটির কারণে বৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়, গাড়ি কাদার মধ্যে আটকে যায়। আমরা চাই সঠিক নিয়মে কাজ হোক। নিম্নমানের কাজ করলে আমরা এলাকাবাসী কোনোভাবেই কাজ করতে দেব না। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে এসে এ রাস্তার কোন তদারকি দেখভাল করছে না। যার কারনে ঠিকাদার এই অনিয়ম করার সাহস পাচ্ছে। আমরা এই এলাকার মানুষ অনিয়ম দেখে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পরে সঙ্গে সঙ্গে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। নিয়মের মধ্যেই কাজ হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে আমি কাজটা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছি। নিয়মের বাহিরে গিয়ে কাজ করার কোন সুযোগ নেই নিয়মের মধ্যেই কাজ হবে।