পাবনার চাটমোহরে একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছেই। প্রতি সপ্তাহেই উপজেলার কোথাও না কোথাও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাড়ি-ঘর যেমন ভস্মিভূত হচ্ছে,তেমনি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে নগদ টাকাসহ ফসলাদি আর আসবাবপত্র ও কাপড়-চোপড়। নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার। আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। দেওয়া হচ্ছে আর্থিক সহায়তা,ঢেউটিন ও খাবার। কিন্তু এ সহায়তা যেন বিশাল সমুদ্রে শিশির বিন্দু। সর্বশেষ সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়েছে প্রান্তিক কৃষক আঃ মতিন। গোয়াল ঘরের কয়েলের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে গভীর রাতে আঃ মতিনের পরিবারের পেঁয়াজ,রসুনসহ ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে ২টি গরু,৫টি ছাগল,২০টি মুরগী। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের দাবি। স্থানীয়রা জানান,রাত ১টার দিকে গোয়াল ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির বসতঘরসহ মোট ৫টি ঘর পুড়ে যায়। আগুনে পুড়ে মারাযায় গরু,ছাগল ও মুরগী। এদিকে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ঝাকড়া গ্রামের দুই ভাই সোলেমান প্রাং ও জিয়ারুলের দুইটি মুদি দোকান অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগলে দোকান দুইটি পুড়ে যায়। এতে লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মিভূত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,গত ৬ মাসে চাটমোহর উপজেলায় অন্ততঃ ২০টি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অর্ধ শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে লাখ লাখ টাকার। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী ৪ লক্ষাধিক টাকা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শুকনো খাবার,কম্বল ও ঢেউটিন প্রদান করেছেন। চাটমোহর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে,চাটমোহরে মাঝে মধ্যেই ঘটছে অগ্নিকান্ডের ঘটনা। তবে দূরবর্তী এলাকা হওয়ার পাশাপাশি সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো ঘটনাস্থলে পেঁছাতে পারেনা। ফলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন হতে হবে।