তানোর এলজিইডি অফিস যেন কার্যাদেশ বেচাকেনার হাট!

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
তানোর এলজিইডি অফিস যেন কার্যাদেশ বেচাকেনার হাট!
রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবন আকন্ঠ দূর্নীতিতে নিমর্জ্জিত হয়ে অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানকার এলজিইডি প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ বেচাকেনা হচ্ছে। এসব কার্যাদেশ বেচাকেনায় প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষকের পকেট ভারী হচ্ছে। শতকরা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ টাকা অগ্রিম দিয়ে কার্যাদেশ কিনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক পরিচয়ের একশ্রেণীর হোমরাচোমরা। তারা নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা নয়ছয় করছেন। তাদের এসব কাজে সহযোগিতা করছে প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষক। ফলে কাজের মান অতি নিন্মমানের। স্থানীয়রা এলজিইডির বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো সরেজমিন তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার যোগদানের পর যেসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সরেজমিন সেসব কাজের মান তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে নিশ্চয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। উপজেলায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। গ্রামগঞ্জের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও স্কুলের ভবন নির্মাণ-সংস্কার কাজে এসব অনিয়ম হচ্ছে। ফলে ভাল মানের কাজ না হওয়ায় কিছুদিন পরপর সংস্কার করতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ভবন চত্ত্বরে গড়ে উঠা টেন পার্সেন্ট সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে প্রতিটি উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ থেকে দশ পার্সেন্ট টাকা আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয় বলেও ঠিকাদারদের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শহরের বিএনপি মতাদর্শী কতিপয় ঠিকাদারের মদদে এলজিইডি ভবন ঘিরে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। ‘টেন পার্সেন্ট’ নামে পরিচিত সিন্ডিকেট চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো এলজিইডি ভবন। স্থানীয় ঠিকাদারগণ বলছে, তানোর এলজিইডি ভবনে এখন স্বাভাবিক নিয়মে কোন কাজ হয় না। কাজে ক্রটি থাক বা নাই থাক কতিপয় কর্মকর্তাকে চাহিদামত আর্থিক সুবিধা দিতেই হচ্ছে তা না হলে কথিত অভিযোগে ঠিকাদারদের বিল আটকে দেয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার ‘টেন পার্সেন্ট’ সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের অনুগত ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, অর্থ ছাড়ে কমিশন আদায় সবমিলিয়ে এলজিইডি ভবনে এক অরাজকতা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। সূূত্র বলছে, ‘টেন পার্সেন্ট’ সিন্ডিকেট চক্র এলজিইডি'র প্রায় ৮০ ভাগ উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। উপজেলায় সড়ক ব্রিজ-কালভ্রাট যাই টেন্ডার দেয়া হোক না কেনো টেন পার্সেন্ট সিন্ডিকেট চক্র ব্যতিত কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেট চক্রের কাছে কাজের কার্যাদেশ বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যার নেপথ্যে রয়েছে প্রকৌশলী নুর নাহার ও হিসাব রক্ষক মোর্তুজা। এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা জানান, উপজেলার কাঁমারগা ইউপির নেজামপুর প্রায় এক কিলোমিটার, পাড়িশো এক কিলোমিটার, হাতিশাইল এক কিলোমিটার, সরনজাই বাজারে প্রায় ৮০০ মিটার, হাড়দহ গ্রামে ৮০০ মিটার কার্পেটিং কাজের মান পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা মিলবে। এসব রাস্তা সংস্কার কাজে সিডিউল মোতাবেক কোনো কাজ হয়নি, যা হয়েছে তা একেবারে অতিনিম্নমাণের। এছাড়াও রাজশাহী শহর থেকে প্রকৌশলী যাতায়াত করেন সরকারি গাড়িতে। এতে অধিকাংশ সময় অফিস সময়ে আসতে পারেন না। আর হিসাব রক্ষক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে অফিস করেন। যাতায়াত করেন মোটরসাইকেলে। এতে তিনিও অফিস সময়ে আসতে পারেন না। এবিষয়ে তানোর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নুর নাহার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একেবারে শতভাগ কাজ কোথাও হয় না। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটু উনিশ-বিশ হতে পারে। নজরে আসলে সেটাও ঠিক করে নেয়া হয়। আর অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। তবে, কার্যাদেশ বেচাকেনার কথা তিনি স্বীকার করে বলেন- এটা ঠিকাদারের বিষয়। কিন্তু এসব প্রকল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব একটা ফান্ড আছে। ওই ফান্ডের টাকায় স্কুলের কাজ হয়, পরিষদ থেকেই টেন্ডার হয়। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী সব জানেন। তারাই এসব বিষয় বলতে পারবেন। কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশনকে নেয় আর কমিশনের টাকা কে কাকে দেয় সে বিষয়টিও তারা জানেন। এসব ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে