ছাত্র রাজনীতি থেকে সংসদে

দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে বাদশার উত্থান

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে বাদশার উত্থান

ছাত্র রাজনীতির অঙ্গন থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই তার এই বিজয়কে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই তিনি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। সেই সময় থেকেই সংগঠন গড়ে তোলা, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দলের আদর্শ সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ছাত্র রাজনীতির মাঠেই তৈরি হয় তার রাজনৈতিক ভিত্তি এবং কর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে দৃঢ় সম্পর্ক।

ছাত্রদল থেকে জেলা বিএনপির নেতৃত্বেঃ ছাত্র রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর ধীরে ধীরে মূল ধারার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন রেজাউল করিম বাদশা। সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণে তিনি জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন। পরবর্তীতে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি দলকে আরও সুসংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করেন। তার নেতৃত্বে বগুড়া জেলায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন গতি পায় বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করা, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করার ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ঃ রাজনৈতিক জীবনের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিরাজ করেছে, সেখানে বিরোধী রাজনীতি করা ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। নানা ধরনের বাধা, মামলা, গ্রেপ্তার ও চাপের মধ্য দিয়েই আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান দলীয় নেতারা। এই দীর্ঘ সময়ে রেজাউল করিম বাদশা ছিলেন আন্দোলনের সামনের সারিতে। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সংগঠনের সঙ্গে থেকে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় বগুড়া পৌরসভার মেয়র থাকার কারণে বগুড়ার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে তার পক্ষে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রেজাউল করিম বাদশা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রেজাউল করিম বাদশা বলেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বিজয় নয় বরং দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম এবং মানুষের পাশে থাকার স্বীকৃতি। এ বিজয় বগুড়ার মানুষের। যে মানুষগুলো জিয়া পরিবারের উপর আস্থা রেখে এই নির্বাচন আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন এটাই তার বাস্তব প্রতিফলন। 

উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশাঃ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বগুড়া সদর আসনের মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধানে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে তার অভিজ্ঞতা সংসদীয় কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগও বাড়বে। ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত রেজাউল করিম বাদশার এই যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করেই তিনি আজ মহান জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে