পাবনার সুজানগরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ হলো সুজানগর পৌরসভাসহ উপজেলার সর্বত্র যখন তখন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। একদিকে বৈশাখের প্রচণ্ড তাপদাহ অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবেক পৌর কাউন্সিলর আলাউদ্দিন জানান, আগে সকাল এবং সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একটি সময়ে লোডশেডিং দেওয়া হতো। এ সময় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের ওই সময়ের সাথে মিল রেখে বিদ্যুৎ নির্ভর কাজ গুলো আগেভাগে সেরে ফেলতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগ আর নেই। এখন আর নির্দিষ্ট কোন সময়ে লোডশেডিং দেওয়া হয়না। গত ৮/১০দিন হলো সকাল, দুপুর, বিকাল ও সন্ধ্যা ঠিক নাই যখন তখন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র আওতাধীন সুজানগর আঞ্চলিক অফিসের হাজার হাজার গ্রাহকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে এলাকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অফিস-আদালতের কাজ-কর্ম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার কুড়িপাড়া গ্রামের তাঁত মালিক আলাউদ্দিন বলেন বর্তমানে অধিকাংশ তাঁত শিল্প বিদ্যুৎ নির্ভর। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতের তৈরী বিশেষ করে শাড়ি ও লুঙ্গি উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সুজানগর আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম উত্তম কুমার সাহা বলেন চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ কিছুটা কম। পাশাপাশি প্রচণ্ড তাপদাহে বিদ্যুৎ লাইনেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।