রাজশাহীতে কয়েক দিন থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দেখা মিলছে না। এর প্রভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বাজারে সয়াবিন তেলেরও সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বেড়েছে ডিমের দাম। রাজশাহী নগরীর ভদ্রা, সাগরপাড়া, সাহেববাজার ও শালবাগান ও কোর্ট বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। বিশেষ করে ৫ লিটারের বোতল বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ২ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।শালবাগানের খুচরা বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিলাররা কয়েক দিন ধরেই পর্যাপ্ত বোতলজাত তেল সরবরাহ করছেন না। নিরুপায় হয়ে ক্রেতারা এখন খোলা তেল ক্রয় করছেন। ভদ্রার খুচরা ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, কোম্পানির কাছে অর্ডার দিয়েও তারা তেল পাচ্ছেন না। এমনকি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা বাজারে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। দাম বাড়ার আশায় কোম্পানিগুলো বাজারে তেল ছাড়া বন্ধ রেখেছে। . বোতলজাত তেলের এই হাহাকারের প্রভাব পড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের ওপর। খুচরা বাজারে এখন খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মাত্র কয়েক দিন আগেও ১৯০ টাকা ছিল। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। তবে সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, এটি একটি কৃত্রিম সংকট। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় তেল মজুত করে রাখায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হাকিম বলেন, গত মাসের চেয়ে সস্তায় বাজার করার আশা করেছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বেতন প্রায় শেষ। প্রতি মাসেই কোনো না কোনো অছিলায় পণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ছে না।’ একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন ব্যাংক কর্মকর্তা অনিন্দ্য সরকার। তিনি বলেন, মাসে এক লাখ টাকা আয় করেও বাজারে এসে নিজেকে অসহায় মনে হয়। সবকিছুর দাম এত বেশি যে কঠোর পরিশ্রমের কোনো মূল্য খুঁজে পাচ্ছি না। আমিষের বাজারেও বিরাজ করছে অস্বস্তি। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও সোনালি মুরগির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।বর্তমানে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা ছুঁয়েছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজিতে স্থির থাকলেও তা সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে। এমনকি ফার্মের মুরগির ডিমের দামও হালিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। বাজারে এখন সবজি প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা। সিম ১০০ টাকা, দেশি শশা ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০টাকা, গাজর (দেশি) ৫০টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ ও ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৫০ টাকা, কাঁচমরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি শিং ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ৭৫০ টাকা, রূপচাঁদা ১৫০০, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।