সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ ও ৬ মাস বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও একজনের শরীরে হাম বা রুবেলা সংক্রমণ ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১২৮ জনের শরীরে হাম ও রুবেলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৬৪ জন, সিলেট জেলায় ৪০ জন, মৌলভীবাজারে ১৬ জন এবং হবিগঞ্জে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন রুবেলায় আক্রান্ত। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ২০০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৩ জন ভর্তি আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৬ জন রোগী। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আরও অনেক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। শিশু মৃত্যুর বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের দিরাই ও সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে আসা দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাম ও রুবেলার উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৩ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নতুন করে আরও ২৩ জন রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে জেলায় প্রায় ৪০ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি বলেন, “শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশন সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। ওসমানী হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ১০টি পিআইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তারা অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নিয়মিত টিকা সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।