সুনামগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৩ মাস মেয়াদী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মন্ত্রীদের সামনেই কৃষি বিভাগের ধান কর্তনের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপি ও সাংবাদিক নেতারা। মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাসেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম (সুনামগঞ্জ-৪), কামরুজ্জামান কামরুল (সুনামগঞ্জ-১), কলিম উদ্দিন আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৫), প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক তার উপস্থাপনায় দাবি করেন, হাওরাঞ্চলে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এ দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানান সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরে নূর আলী। তারা বলেন, কৃষি বিভাগের প্রতিবেদন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, অনেক কৃষক এখনো অর্ধেক ধানও কাটতে পারেননি। তারা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ঢাকায় থেকে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর আহ্বান জানান এবং কৃষি বিভাগের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ত্রাণমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানালে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে বলেন, কৃষি বিভাগের তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তিনি ধারণা দেন, অধিকাংশ কৃষক এখনো অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম হেলালও এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষের এমন ভিন্নমত হাওরাঞ্চলের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এদিকে বিকেলে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাস মেয়াদী মানবিক সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ৪০০ কৃষকের মাঝে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা বিতরণ করা হয়।