মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনা

ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আদালতে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আদালতে আবেদন

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে আদালতে দায়ের করা একটি মামলা আবেদন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে এই আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা এই মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরবর্তী আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২১ জুলাই। ওই দিন উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এতে ৩৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৮ জনই ছিল শিক্ষার্থী। পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

এই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত ও দায় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার আদালতে সরাসরি মামলা আবেদনের মাধ্যমে নতুন মাত্রা যোগ হলো। মামলায় শুধু সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাই নন, শিক্ষা ও প্রশাসনসহ একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পেছনে দায়িত্বে অবহেলা ছিল বলেই আমরা আদালতে আবেদন করেছি। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন।”

মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় এত উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি অভিযোগ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে আদালত এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আদেশ দেয়নি।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার দায়, প্রশাসনিক তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের এই বিমান দুর্ঘটনাকে অন্যতম ভয়াবহ স্কুল ক্যাম্পাস ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে