নাটোরের লালপুর উপজেলায় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষিকার ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বুধবার (১৩ মে) প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. তাওহীদ (৭)। সে ওয়ালিয়া গ্রামের সোহানুর রহমানের ছেলে এবং বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন পাঠদান করছিলেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ছোড়া একটি ডাস্টার তাওহীদের চোয়ালে সজোরে আঘাত করে। এতে তার জিহ্বা কেটে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে পড়ে শিশুটি। ঘটনাস্থলেই সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা সোহানুর রহমান বলেন, তার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি দোষী শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ না করেন- সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত চেঁচামেচি করছিল। শৃঙ্খলা ফেরাতে সহকারী শিক্ষিকা একটি ডাস্টার ছুঁড়ে মারেন, যা তাওহীদের চোয়ালে আঘাত করে এবং তার জিহ্বা কেটে যায়। পরে দ্রুত আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, বিষয়টি প্রথমে তাকে অবহিত করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।