৩ বছরের সাজা এড়াতে ১২ বছর পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
| আপডেট: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম | প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
৩ বছরের সাজা এড়াতে ১২ বছর পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার

অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৩ বছরের সাজা এড়াতে মুর্শেদ খাদেম (৪০) নামের এক ব্যক্তি ১২ বছর পালিয়ে থাকার পর অবশেষে গত বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা হরলাল দেবনাথ। মুর্শেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের কোনাপাড়ার প্রয়াত ফরিদ মিয়ার ছেলে। সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। 

পুলিশ, মামলা ও বাদী সূত্র জানা জানায়, ইট দেওয়ার শর্তে হরলাল দেবনাথে কাছ থেকে ষ্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে ২০১২ সালে সাড়ে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন মুর্শেদ খাদিম। টাকা গ্রহণের পরই রূপ বদলে ফেলেন মুর্শেদ। ইট না দিয়ে  দীর্ঘদিন হরলালকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মুর্শেদ লাপাত্তা হয়ে যান। মুর্শেদের অবস্থান জানতেও হরলালকে বিভিন্ন জায়গায় ধরণা দিতে হয়। বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালে হরলাল দেবনাথ মুর্শেদের স্বাক্ষর করা ষ্ট্যাম্প দিয়ে তার বিরূদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন। এ মামলায় ২০১৪ সালে বিজ্ঞ আদালত মুর্শেদ খাদিমকে ৩ বছরের সাজা প্রদান করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজাকে এড়াতে মুর্শেদ পালিয়ে থাকেন। ৩ বছরের সাজা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মুর্শেদ দীর্ঘ ১২ বছর পালিয়ে থাকেন। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শাহজাদাপুর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানকালে তারা সাজাপ্রাপ্ত আসামী মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, উল্লেখযোগ্য কোন কর্ম না করলেও মুর্শেদ খুব দাপুটে চলেন। তার কাছে অনেক লোকজন টাকা পাবেন। পাওনাদাররা তার খুঁজে গ্রামে আসেন। তার শ্বশুড়বাড়ি দেওড়ায় গিয়েও মুর্শেদকে খুঁজেন। এ.এস.আই আমান উল্লাহ মুর্শেদকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একটি মামলায় ১২ বছর আগে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। উনার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিলেন। বুধবার রাতে কৌশলে মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে