চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা হাটের বেহাল দশা, দূর্ভোগে ক্রেতা-বিক্রেতারা

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) : | প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা হাটের বেহাল দশা, দূর্ভোগে ক্রেতা-বিক্রেতারা

পাবনার চাটমোহর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ হাট অমৃতকুন্ডা (রেলবাজার)। প্রতি বছর এই হাট ইজারা হয় কোটি টাকার বেশি। অথচ হাটের উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নেই। ইজারাদারদের দৌরাত্ম আর হাটের অব্যবস্থানায় অতিষ্ঠ ক্রেতা-বিক্রেতারা। হাটের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো এখন চলাচলের অযোগ্য। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। কাদা পানির মধ্যে হাটুরেদের চলাচল করতে হচ্ছে। ইজারাদার কর্তৃক হাটের বিভিন্ন অংশ সাব ইজারা প্রদান করা হয়েছে। সাব ইজারাদার ও তাদের লোকজন জোর জবরদস্তি অতিরিক্ত টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই খাজনা বা টোল আদায় করা হয়। এনিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

হাটের দিন রবিবার (২৬ জুলাই) অমৃতকুন্ডা হাটে গিয়ে দেখা যায়,চরম অব্যবস্থাপনার কারনে কমেছে হাটের জৌলুস। হাটের ভেতরের রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দু’চারটি রাস্তা ব্যবহার না করায় সেখানে আগাছার জন্ম হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। কাদা পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে রাস্তাগুলো। ফলে হাটুরেদের চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাটে কমেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও। গরু ও ছাগল হাটে গিয়ে দেখা গেল,পশুর আমদানি কম। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই হাসিল (খাজা) আদায় করা হয় বলে জানালেন একজন গরুর ব্যাপারী। এখানে নিয়ম কানুনের কোন বালাই নেই। হাটের মাঝখানে কোটি ব্যয়ে নির্মিত কৃষক মার্কেটটিতে রসুন বেচাকেনা হয়। এখানে ইজারাদারের অফিস ও পাবলিক টয়লেট রয়েছে। হাটের ভেতরের রাস্তাগুলো দেখলে মনে হবে,এগুলো যেন হাটের রাস্তা নয়,কোন গ্রামের আগাছাযুক্ত কাদার রাস্তা। হাটুরেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন,‘আমরা হাটে এসে চলাচল করতে পারিনা। কাদা পানি মারিয়ে চলাচল করতে হয়। ইজারাদারদের বলেও কোন ফল হয়নি। তাছাড়া অতিরিক্ত টোল আদায় এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।”

হাটের ব্যবসায়ীরা জানালেন,হাটের দুরাবস্থার কথা। বললেন,বৃষ্টি হওয়া মাত্র গোটা হাটে পানি জমে যায়। কাদা পানিতে একাকার হাটে চলাই দুরুহ। এ নিয়ে কারো কোন উদ্যোগ নেই। অথচ ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে ইজারাদার জোরপূর্বক টোল আদায় করছেন প্রতি হাটে। 

হাটের ইজারাদার মহরম মল্লিক বললেন,‘ভাই হাটের করুন অবস্থা। বারবার ইউএনও স্যারকে বলছি। কিন্তু ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হয়নি। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম দূর্ভোগে পড়েন। হাটের উন্নয়ন জরুরীভিত্তিতে দরকার।” ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান,সবার কাছ থেকে নেওয়া হয়না। খরচ আছো তো,রসুন হাট থেকে কিছু নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বললেন,‘অমৃতকুন্ডা হাটের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। হাটের উন্নয়নে পদক্ষেপপ নেওয়া হবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।  

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে